• শাহারুল, বাবুসোনা...বামুনিয়া বিস্ফোরণের ঘটনায় ২ জনকে গ্রেফতার করল NIA, বেপাত্তা শওকত মোল্লা!
    News18 বাংলা | ০৪ জুন ২০২৬
  • দক্ষিণ বামুনিয়ার বিস্ফোরণের ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভোরবেলা থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৎপর এনআই৷ গ্রেফতার করা হয়েছে শাহারুল ইসলাম এবং বাবুসোনা মোল্লাকে৷ এদিন সকাল সকালই তৃণমূলের পূর্ব ক্যানিং বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার জীবনতলার বাড়ি সহ বিজয়গঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালান তদন্তকারী আধিকারিকদের একটি দল৷ কলকাতা পুলিশের ভাঙড় ডিভিশনের মোট চারটি জায়গায় এনআইএ-র তদন্তকারী অফিসাররা যান। বিজয়গঞ্জ বাজার থানার বামুনিয়ায় যে এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটেছিল সেই এলাকার দু’টি জায়গায় যায় NIA টিম। অন্যদিকে, ভাঙড় থানার নলমুড়ি এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স চালক সুরাজ মোল্লার বাড়িতে যায় আরেকটি দল। দিনের শেষে বাবুসোনা এবং শাহরুল নামের দু’জনকে গ্রেুফতার করে এনআইএ৷

    ভোটের আগে দক্ষিণ বামুনিয়ায় বিস্ফোরণ। পরিত্যক্ত বাড়িতে বোমা বাঁধতে গিয়ে এই বিস্ফোরণ ঘটে। গত ১৮ মার্চ গভীর রাতে বিস্ফোরণে মারা যান ১ জন। সেই তদন্তেই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে NIA বলে সূত্রের খবর। দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভাঙড় এলাকায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে বোমা বাঁধতে গিয়ে বিষ্ফোরণে মৃত্যু হয় দেগঙ্গা থানার গাংনীয়া গ্ৰামের তৃণমূলের বুথ সভাপতি মসিউর রহমানের। মসিউর রহমানের ছিন্নভিন্ন মৃতদেহ হাড়োয়া এলাকার একটি মেছো ভেরির পাশ থেকে উদ্ধার করে হাড়োয়া থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্তভার নেয় এনআইএ। এদিন সেই সূত্রেই শুরু হয় তদন্ত৷

    অভিযোগ, বোমা বাঁধার সঙ্গে যুক্ত উত্তর কাশীপুর থানার রঘুনাথপুর গ্রামের এক যুবকের বাড়িতে এদিন যায় বিজয়গঞ্জ বাজার থানার পুলিশ। এই বোমা বাঁধার কাজে মূল মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করেছে অহিদুল ইসলামকে। অহিদুল ইসলাম সবাইকে সংগঠিত করে এই বোমা বাঁধার কাজ চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ। তাঁর বাড়িতে একদিকে যেমন NIA তদন্তকারী অফিসাররা তল্লাশি অভিযান চালায়, তারই পাশাপাশি বিস্ফোরণের পরে আহতদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে সাহায্য করেছিল এই অভিযোগে স্থানীয় এক যুবকের বাড়িতেও এনআইএ টিম যায়। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তদন্ত চালিয়ে তাঁরা বিজয়গঞ্জ বাজার থানায় আসেন। তল্লাশি অভিযান চালিয়ে বেশকিছু নথি উদ্ধার করে বলে NIA সূত্রে খবর।

    বিস্ফোরণের ঘটনায় শাহারুল ইসলামকে গ্রেফতার করে NIA। বিজয়গঞ্জ বাজার থানার কোচপুকুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে বলে সূত্রের খবর। তাঁকে চিহ্নিতকরণ করার জন্য তাঁর ভাই সাকিরুল ইসলামকে আটক করে বিজয়গঞ্জ থানায় আনে NIA তদন্তকারী অফিসারেরা। এর আগে এই ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স চালক সুরাজ মোল্লাকে গ্রেফতার করেছিল বিজয়গঞ্জ বাজার থানার পুলিশ। তাঁকে NIA তদন্তকারী অফিসারদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন পুলিশ আধিকারিকরা। সুরাজ মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ধীরে ধীরে উঠে আসে তথ্য।

    অন্যদিকে, শাহারুলের পাশাপাশি আরও একজনকে গ্রেফতার করে এনআইএ। বিজয়গঞ্জ বাজার থানার পুলিশের সাহায্য নিয়ে সাহারুলের গাড়ি যে গ্যারেজে ছিল, সেই গ্যারেজের যুবক বাবুসোনা মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয় এদিন।

    অন্যদিকে, বাবুসোনা মোল্লা নামের এক ব্যক্তির গ্যারেজেও যান NIA তদন্তকারী আধিকারিকরা। বিজয়গঞ্জ বাজার থানার পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে বাবুসোনা মোল্লার গ্যারেজে পৌঁছয় এনআইয়ের অফিসাররা। বিস্ফোরণের পর যে গাড়িতে করে আহতদেরকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেই গাড়ি এখানে সার্ভিসিং-এ ছিল। সার্ভিসিং-এর পাশাপাশি গাড়ির মধ্যে থাকা কিছু তথ্যপ্রমাণ সে লোপাট করে বলে অভিযোগ। এমনকি, গ্যারেজের পাশেই একটি জায়গায় পুড়িয়ে দেয় সেই নমুনা। এনআইএ আধিকারিকরা সেই পোড়া অংশ উদ্ধারের পাশাপাশি তাঁর গ্যারেজে তল্লাশি চালায়।

    তদন্তে উঠে আসে মসিউর ছাড়া উপস্থিত ছিল মসিউর রহমানের পাড়ার বাসিন্দা সুজয় মণ্ডল এবং কাবির মোল্লা। ঘটনার কয়েকদিন পরে আহত অবস্থায় সুজয় মণ্ডলকে গ্ৰেফতার হয়। খোঁজ পাওয়া যায়নি অন্য অভিযুক্ত কাবির মোল্লার। মঙ্গলবার সাত সকালে এনআইএর তিনটি দল পৃথক ভাবে অভিযুক্তদের বাড়িতে তল্লাশি এবং জিজ্ঞাসাবাদ করছে এনআইএ আধিকারিকরা। সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও দেগঙ্গা থানার পুলিশ।
  • Link to this news (News18 বাংলা)