• দাম্পত্যে দীর্ঘ ছেদ মানসিক নিষ্ঠুরতা, স্বামীর আবেদন মঞ্জুর করে কী জানাল সুপ্রিম কোর্ট?
    এই সময় | ০৪ জুন ২০২৬
  • কোনও দম্পতি দীর্ঘদিন আলাদা থাকলে এবং সম্পর্ক জোড়া লাগানোর ক্ষেত্রে তাঁদের প্রকৃত কোনও চেষ্টা না দেখা গেলে, তা মানসিক নিষ্ঠুরতার সামিল। স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি মামলায় বৃহস্পতিবার এই কথা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতি হিন্দু বিবাহ আইনে বিবাহ বিচ্ছেদের যথাযথ ভিত্তি।

    স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই পেশায় ডাক্তার। তাঁরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। বিয়ের পরে তাঁরা দু’-তিন মাস একসঙ্গে ছিলেন। তার পরে দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে তাঁরা আলাদা থাকেন। এই পরিস্থিতিতে স্বামীর বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন মঞ্জুর করে শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে, দাম্পত্য সম্পর্ক যখন কার্যত শেষ, তখন কেবলমাত্র Legal Formality বা আইনি কাঠামোয় তা টিকিয়ে রাখা যায় না।

    সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এই মামলায় স্ত্রী গুজরাটের নাদিয়াড় খেরা এলাকায় সরকারি হাসপাতালে গাইনোকোলজিস্ট হিসেবে কর্মরত। স্বামী রাজস্থানের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক। দু’জনের কর্মক্ষেত্র দু’টি ভিন্ন জায়গায়। দু’জনেই স্বেচ্ছায় দূরের জায়গা বেছে নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দাম্পত্যের সম্পর্ক নেই দীর্ঘ ১৫ বছর। তাই কার্যত তাঁদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও অনুপস্থিত।

    ২০০৭ সালের ৫ ডিসেম্বর দম্পতির বিয়ে হয় গুজরাতের নাদিয়াড় খেরা এলাকায়। স্বামী-স্ত্রীর কোনও সন্তান নেই। ২০০৯ সালে রাজস্থানের ভরতপুরের পারিবারিক আদালতে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে স্বামী বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন। পারিবারিক আদালত জানায়, স্বামী মানসিক নির্যাতনের উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারেননি। তাই স্বামীর আবেদন খারিজ করে দেয় পারিবারিক আদালত। রাজস্থান আদালত ২০২৫ সালে স্বামীর বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন মঞ্জু করে। স্ত্রী হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন।

  • Link to this news (এই সময়)