বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের হদিস মিললেই তাঁদের আটক করে হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে। রাজ্য জুড়েই এই কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। সেই আবহে ভিড় বেড়েই চলেছে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুরে। একই সঙ্গে চলছে ‘পুশব্যাক’। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বুধবার কয়েকশো অনুপ্রবেশকারীকে পাঠানো হয়েছে ওপারে।
বৃহস্পতিবারও অন্তত ১৭০ জন অনুুপ্রবেশকারী জড়ো হয়েছেন হাকিমপুর সীমান্তে। প্রশাসনিক সূত্রে দাবি, তাঁরা বিভিন্ন সময়ে মোটা টাকার বিনিময়ে দালাল মারফত এ দেশে ঢুকেছিলেন। ভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন এলাকায় কাজ করতেন তাঁরা। হাকিমপুরে সীমান্তের কাছে বসে থাকা এক মাঝবয়সি মহিলা বলেন, ‘আমি তো অনেক ছোটবেলায় এসেছিলাম। কিন্তু কী ভাবে এসেছিলাম, ভুলে গিয়েছি। এখানে বসিরহাটে থাকতাম। এখন ফিরে যাচ্ছি, কারণ সরকার চায় না, আমরা থাকি।’ আর যুবকের কথায়, ‘আমি বছর পাঁচেক আগে এসেছিলাম। মধ্যমগ্রামে থাকতাম। সরকার চাইছে না, তাই চলে যেতে হচ্ছে।’
সরকারি একটি সূত্রের দাবি, স্বরূপনগরের তিনটি হোল্ডিং সেন্টারে বেশ কয়েক জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানোর কাজ চলছে। বুধবারই যাঁদের ওপারে পাঠানো হয়েছে, তাঁদের সকলের বুড়ো আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করেছে প্রশাসন। বিএসএফ সূত্রে খবর, অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে যত ক্ষণ না সব তথ্য মিলছে, তত ক্ষণ তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানো হবে না। তবে হোল্ডিং সেন্টারে আটকদের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। থাকছে চিকিৎসার ব্যবস্থাও। দেশে ফেরানোর আগে যাতে তাঁদের কোনও অসুবিধা না হয়, তা দেখার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।