স্বস্তির বৃষ্টিতেও মর্মান্তিক ঘটনা। বজ্রপাতের কারণে একই জেলায় মারা গেলেন চার জন। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি ও তপনের ঘটনা। বংশীহারিতে বজ্রপাতের কারণে একই পরিবারের ৩ জন মারা গিয়েছেন। তপনে মারা গিয়েছেন এক বধূ। মুর্শিদাবাদ জেলাতেও ২ জন মারা গিয়েছেন। জলপাইগুড়িতেও মারা গিয়েছেন এক জন।
বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ আচমকা ঝড় ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি শুরু হয়। সেই সময়ে বজ্রঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বিশ্বনাথ সরকার (৩৮), তাঁর স্ত্রী পুষ্পা সরকার (৩০) এবং মেয়ে নন্দিতা সরকার (১১)। স্থানীয় বাসিন্দারা তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বদলপুর এবং পরে বংশীহারী গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বংশীহারী থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলের বৃষ্টিতেই বজ্রাঘাতে মৃত্যু হল তপনের এক বধূর। মৃতার নাম সন্ধ্যা রায় (৪০)। তিনি তপন থানার বাসুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝাড়পুকুর এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন বিকেলে মাঠ থেকে মাথায় খড় নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন সন্ধ্যা দেবী। সেই সময়ে বজ্রাঘাতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। বাড়ির লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে তপন গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে মুর্শিদাবাদেও। সুতি থানার নয়াগ্রাম কুসুমগাছি গ্রামে আম কুড়োতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে ১৪ বছরের এক নাবালকের। মৃতের নাম আবুল কাসেম শেখ (১৪)। একই দিনে সুতি থানার বহুতালি বৈষ্ণবডাঙা এলাকায় আরও একটি বজ্রাঘাতের ঘটনা ঘটে। সেখানে ঝড়-বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে শেখ আব্দুর রশিদ (৫৪) নামে এক প্রৌঢ় স্থানীয় একটি আমবাগানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই সময়ে বাজ পড়লে তিনি গুরুতর জখম হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জলপাইগুড়ি সদর ব্লকেও বজ্রাঘাতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মন্ডলঘাট গ্রামপঞ্চায়েতের অন্তর্গত কাদোবাড়ি দাসপাড়া এলাকার ঘটনা। মৃতের নাম রাজা দাস (২২)। আরও চার জন জখম হয়েছেন। স্থানীয় সুত্রের খবর নিহত এবং আহতরা সকলেই দাস পাড়ার বাসিন্দা।