• ঋতব্রত বহিষ্কারকাণ্ডে নাটকীয় মোড়!
    আজকাল | ০৫ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: নয়াদিল্লিতে দাঁড়িয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও নজিরবিহীন ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ঋতব্রত ব্যানার্জির সাম্প্রতিক বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে আইনত সম্পূর্ণ অবৈধ বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। স্পিকারের এই আকস্মিক ও কড়া মন্তব্য শুধু যে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে তা নয়, বরং একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

    স্পিকার রথীন্দ্র বোস স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনও  রাজনৈতিক দল চাইলেই নিজের ইচ্ছেমতো এক রাতের মধ্যে কাউকে দল থেকে বের করে দিতে পারে না। প্রতিটি দলের নিজস্ব একটি সংবিধান থাকে এবং সেই নিয়ম মেনে যেকোনও  চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করা বাধ্যতামূলক। ঋতব্রত ব্যানার্জির ক্ষেত্রে এই ন্যূনতম গণতান্ত্রিক ও আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা করা হয়নি বলেই স্পিকার তাঁর পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি নেওয়া এই সিদ্ধান্ত তাই আইনসভার চোখে কোনো বৈধতা পাচ্ছে না।

    এই ঘটনার জল আরও অনেক দূর গড়িয়েছে। দল থেকে পাঠানো বহিষ্কারের যে চিঠিটি সামনে এসেছিল, তার সত্যতা এবং সেখানে থাকা স্বাক্ষর নিয়ে ইতিমধ্যেই গভীর ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। চিঠির এই অসঙ্গতি খতিয়ে দেখতে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনও  রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চিঠির বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ে সিআইডি তদন্তের এই নির্দেশ ঘটনাটিকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

    সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হল, স্পিকার যখন দেশের রাজধানীতে বসে এই হাই-প্রোফাইল ঘোষণাটি করছেন, তখন তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, অর্জুন রাম মেঘওয়াল এবং রাজ্য বিধানসভার সচিব সত্যেন্দ্রনাথ দাস। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে স্পিকারের এই বক্তব্য রাজ্য ও কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণে কোনও  নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। একদিকে দলীয় সংবিধান লঙ্ঘনের দায়, অন্যদিকে সিআইডি তদন্ত—সব মিলিয়ে ঋতব্রত ব্যানার্জির বহিষ্কারের জল আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।
  • Link to this news (আজকাল)