মমতা ঘনিষ্ঠ 'কানন'। বহু মন কষাকষি পেরিয়ে, 'দিদি' যখন ক্রমশ নিঃসঙ্গ হচ্ছেন, তখন হাসপাতালে, ঘরে মমতার সঙ্গে ছায়ার মতোই রয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ফিরহাদ হাকিম কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিতে চেয়ে মমতা ব্যানার্জিকে চিঠি দিয়েছেন বলে জানা যায়, মহানগরে তখনই শুরু জন্ম হয়েছে নতুন এক জল্পনার। জল্পনা, এবার নাকি ফের শোভন চ্যাটার্জিই হবেন কলকাতার মহানাগরিক। যদিও ওই জল্পনার কোনও নিশ্চয়তা নেই এখনও। আর সেই কারণেই উত্তর খুঁজতে আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল শোভনের সঙ্গেই। জল্পনার উত্তরে জানালেন, 'কখন মাসির গোঁফ হলে মেসো হবেন...।' সঙ্গেই চাঁচাছোলা ভাষায় মতামত জানালেন, কলকাতা পুরসভায় অতি সম্প্রতি ঘটে চলা একগুচ্ছ ঘটনা সম্পর্কেও।
তৃণমূল ভোটে হারার পর, কলকাতা পুরসভার হাউস ডাকতে দেওয়া হয়নি। বন্ধ রাখা হয়েছিল নির্দিষ্ট কক্ষের দরজা। এদিন বিষয়টি নিয়ে শোভন বলেন, 'কলকাতা কর্পোরেশনের ১৯৮০ সালের যে আইন আছে, তাতে এটি একটি অটোনমাস বডি। এই আইন মোতাবক কলকাতা পৌরসভা পরিচালিত হয়, এবং সেই পরিচালনার ক্ষেত্রে কলকাতা কর্পোরেশনের হেড হলো মেয়র অফ ক্যালকাটা, সঙ্গে থাকে চেয়ারম্যানের এক্তিয়ার। কোনও বিষয়ই অফিস ওরিয়েন্টেশনের মধ্যে পড়ে না। আমি দীর্ঘকাল ধরেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলাম। এই স্পেসিফিক জায়গা থেকে সরে আসার কোন জায়গা কোন অফিসারের নির্দেশে হতে পারে না। এমআইসি বৈঠক বাতিল করা হয়েছে, মেয়র ছাড়া অন্য কেউ এই নির্দেশ দিয়ে থাকলে তা নিয়ম বহির্ভূত কাজ। দরজা খোলা হয়নি। আদালত কিন্তু বলে দিয়েছে এই অধিকার কারও নেই, চেয়ারম্যান ছাড়া। অর্থাৎ যে বা যাঁরা এগুলি করেছেন, তাঁরা উত্তর দিতে বাধ্য।'
একই সঙ্গে শোভন তুলে আনছেন বুধের বৈঠক প্রসঙ্গও। মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে ফিরহাদের পেশ করা দুটি প্রস্তাবে তিনি খানিকটা ক্ষুন্ন। শোভনের মতে, 'মেট্রোপলিটান ফ্লাইওভার, গঙ্গার নিচে টানেলের কথা বলেছেন, কিন্তু ওঁ মন্ত্রী হিসেবে ছিলেন যে জায়গায়, বা মেয়র হিসেবে, সেদিক থেকে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে একটা জিনিসই তুলে ধরা দরকার ছিল, পরিকাঠামো ভেঙে ফেলা হচ্ছে, আইন বিরুদ্ধ কাজ করা হচ্ছে। আগে পুরসভাটাকে আইনের মধ্যে নিয়ে আসা হোক। যেই থাকুন না কেন এই মেয়র পদে, সবার আগে তাঁর দায়িত্ব হতে হবে পুরসভা আগলে রাখে। আগে যে ঘরে থাকছি, সেখানে চাল আছে কিনা, সেটা দেখতে হবে তো। রাজার পরিবর্তন হয়, রাজত্বের পরিবর্তন হয় না। তাই আইনগত দিক থেকে কার কী অধিকার, সে সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে সবার আগে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সব ইস্যুতেই আইনের মধ্যে থেকে যা যা অ্যাক্ট করা উচিৎ বলছেন, কিন্তু অফিসারেরা বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড়-এর মট কাজ করছেন।'
পৌরসভা নিয়ে আইন বোঝা গেল, কিন্তু এবার কি কলকাতার পুরসভার মাথায় তিনি, ফের? শুনেই শোভন বলছেন, 'মাসির গোঁফ হলে মেসো হবে না মামা, তা ভাবার কারণ নেই। অকারণ মরিচীকার দিকে দৌড়নোর মানেও নেই। যদি নতুন মেয়র হন কেউ, সেটাও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে আসবে এবং সেটা প্রশাসনিক ভাবে কার্যকর হবে। আগে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হোক, তারপর সেটা প্রশাসনে আসবে। তখন স্পষ্ট হবে উত্তর।'