• সোনার কয়েন, দুর্লভ পুঁথি...! ২৫ বছরের সাধনা বাঁচাতে মঙ্গলকোটে মিউজিয়াম তৈরির দাবি
    News18 বাংলা | ০৫ জুন ২০২৬
  • : দীর্ঘ ২৫ বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় সংগ্রহ করা অসংখ্য প্রাচীন নিদর্শন সংরক্ষণের লক্ষ্যে মঙ্গলকোটে একটি স্থায়ী সংগ্রহশালা বা মিউজিয়াম গড়ে তোলার দাবি আরও একবার সামনে আনলেন গবেষক ও সংগ্রাহক সম্রাট মুন্সি। বিডিও অফিসে উপস্থিত হয়ে তিনি তাঁর সংগ্রহে থাকা একাধিক মূল্যবান প্রাচীন নিদর্শন ও পুঁথির নমুনা প্রদর্শন করেন কাটোয়া মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক সুস্মিতা মুখার্জীর কাছে। এদিন বিডিও অফিসে সুস্মিতা মুখার্জীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মঙ্গলকোট ব্লকের জয়েন্ট বিডিও-সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা।

    সম্রাট মুন্সি তাঁর দীর্ঘদিনের সংগ্রহ অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং মঙ্গলকোটের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। সম্রাট মুন্সির দাবি, গত প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি মঙ্গলকোটের বিভিন্ন গ্রাম, জনপদ ও প্রত্যন্ত এলাকায় ঘুরে বহু প্রাচীন নিদর্শন সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে দুর্লভ পুঁথি, পুরনো মুদ্রা, বিভিন্ন ঐতিহাসিক সামগ্রী এবং এমনকি সোনার কয়েনও। তবে ব্যক্তিগতভাবে সেগুলি নিজের কাছে রেখে দেওয়ার পরিবর্তে তিনি বারবার প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়েছেন।

    তাঁর বক্তব্য, দেশের ঐতিহ্য ও ইতিহাস রক্ষার স্বার্থেই এই সমস্ত নিদর্শন সংরক্ষণ করা জরুরি। তিনি জানান, মঙ্গলকোটের বিভিন্ন এলাকায় এখনও বহু প্রাচীন মন্দির, স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শন অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেগুলিকে চিহ্নিত করে সংরক্ষণের জন্য সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। তাঁর মতে, একটি সংগ্রহশালা গড়ে উঠলে শুধু প্রাচীন সামগ্রী সংরক্ষণই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এলাকার ইতিহাস ও সংস্কৃতিও তুলে ধরা সম্ভব হবে। সম্রাট মুন্সি বলেন, বহু মানুষ তাঁদের কাছে থাকা মূল্যবান পুরাকীর্তির কথা প্রকাশ করেন না। কিন্তু তিনি যখনই কোনও গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন পেয়েছেন, তখনই প্রশাসনকে তা জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের এই সংগ্রামের ফলস্বরূপ মঙ্গলকোটে একটি মিউজিয়াম বা গবেষণা কেন্দ্র গড়ে উঠুক, সেটাই তাঁর প্রধান দাবি।

    এদিন মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক তাঁর সংগ্রহ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে আরও বৃহত্তর পরিসরে কাজের সম্ভাবনার কথাও জানান বলে দাবি সম্রাট মুন্সির। স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের স্বার্থে মঙ্গলকোটে একটি সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের। সম্রাট মুন্সির মতো গবেষক ও সংগ্রাহকদের প্রচেষ্টা সেই দাবিকে আরও জোরালো করে তুলছে বলে মনে করছেন এলাকার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষজন।
  • Link to this news (News18 বাংলা)