• নতুন হর্ষদ মেহতা, ১৫ লক্ষ কোটির শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি! জড়িয়ে গেল এলআইসির নামও
    প্রতিদিন | ০৫ জুন ২০২৬
  • যেন হর্ষদ মেহতার গল্পের পুনরাবৃত্তি! শেয়ার বাজারে বিরাট কেলেঙ্কারিরর পর্দাফাঁস। প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার হেরফের। খোদ মোদি সরকারের অধীনস্থ সংস্থা সেবির রিপোর্টে চাঞ্চল্য। অভিযুক্ত রাজেশ এক্সপোর্ট নামের অভিযুক্ত ওই সংস্থার ডিরেক্টরকে আপাতত শেয়ার বাজারে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করেছে সেবি।

    রাজেশ এক্সপোর্টস নামের ওই সংস্থাটি বেঙ্গালুরুর। বিশ্বমানের সোনা এবং অন্য রত্ন প্রস্তুতকারী সংস্থা হিসাবে এটি লিস্টেড। বিদেশে এর বহু সহকারী সংস্থাও রয়েছে। ওই সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ মারাত্মক। সেবি একটি বিস্তৃত রিপোর্টে দাবি করেছে, ওই সংস্থাটি ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর নিজেদের বার্ষিক আয়ব্যয়ের বিকৃত হিসাবে পেশ করেছে। বিদেশের সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে নিজেদের সংস্থার আয় অনেক বেশি বাড়িয়ে দেখিয়েছে সংস্থাটি। সেই বর্ধিত আয় দেখিয়ে আবার দেশের বাজার থেকে টাকা তুলেছে রাজেশ এক্সপোর্ট।

    রাজেশ এক্সপোর্টের পাঁচ বছরের আর্থিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ওই পাঁচ বছরে সংস্থার মোট আয় ১৫ লক্ষ ৩৪ হাজার কোটির কিছু বেশি। কিন্তু সেবির রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ওই হিসাবের ৯৭-৯৯ শতাংশই ভুয়ো। অর্থাৎ দুর্নীতির অঙ্কটা প্রায় ১৫ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা কিনা বহু দেশের সার্বিক জিডিপির চেয়েও বেশি। ঘটনাচক্রে ওই সংস্থায় বিরাট অঙ্কের শেয়ার রয়েছে এলআইসিরও। সব মিলিয়ে রাজেশ এক্সপোর্টে প্রায় ১০.৮ শতাংশ রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থার। স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তুঙ্গে।

    সেবি ৩ জুন ওই রিপোর্ট প্রকাশ করে রাজেশ এক্সপোর্টের এমডি রাজেশ মেহতাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার সকালেই ওই সংস্থার শেয়ারের দাম পাঁচ শতাংশ নেমে গিয়েছে। যদিও সেবির ওই রিপোর্ট চূড়ান্ত নয়। কংগ্রেসের প্রশ্ন, এতদিন ধরে এত বড় অনিয়ম সরকারের নাকের ডগায় হল কী করে। একটা সংস্থা এত বড় আয়ের কথা বলছে, অথচ তাদের সেভাবে দৃশ্যমান কোনও কার্যকলাপ নেই-তা নিয়ে সরকারের কেউ প্রশ্ন তুলল না? কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশের দাবি, সরকারের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের ইশারাতেই ওই সংস্থায় এলআইসি বিনিয়োগ করেছে। সংস্থাটি ফুলেফেঁপে উঠেছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)