• একমাসে দু’বার মাইনে! অভিনব আইডিয়া উদ্যোগপতির, কতটা উপকৃত হবেন কর্মীরা?
    প্রতিদিন | ০৫ জুন ২০২৬
  • মাইনের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকার মেসেজ-ধ্বনি যতই মধুর হোক, অচিরেই সেই মধুরতা ফিকে যায়। ইএমআই থেকে ইলেকট্রিক বিল, বাড়িভাড়া থেকে ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া- দিতে দিতেই পকেট গড়ের মাঠ। তার উপর হাতে টাকা থাকলেই রেস্তরাঁয় কিঞ্চিৎ খানাপিনা, সিনেমা, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে হুল্লোড়- মাসের মাঝখানে খাবি খাওয়ার অবস্থা। যদি মাসের মাঝখানেও একবার ফের স্যালারি ‘ক্রেডিটেড’ হত? উদ্যোগপতি অনুপম মিত্তল এমনই এক প্রস্তাব দিয়েছেন। ব্যাপারটা কী?

    অনুপমের প্রস্তাব, মাসে দু’বার মাইনে হোক। না, যে পরিমাণ অর্থ পান বেতন হিসেবে সেটার দ্বিগুণ একমাসে পাওয়ার কথা হচ্ছে না। আপনার বেতনই দু’ভাগে ভাগ করে মাসের দুই অর্ধে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ শুরুতে একবার। আবার মাসের মাঝখানে একবার। দুই ভাগে টাকা পেলে আর্থিক চাপ সামলানো সহজ হবে। এমনটাই যুক্তি শাদি ডট কমের প্রতিষ্ঠাতার।

    লিঙ্কড ইনে একটি পোস্টে অনুপম এমন প্রস্তাব দেওয়ার পর থেকেই তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। মিত্তলের মতে, বহু প্রথমসারির ভারতীয় সংস্থাই মাসের প্রথম সপ্তাহে, একেবারে শুরুর দিকেই বেতন দেয়। কিন্তু অনেক সময়ই সপ্তাহান্ত, ব্যাঙ্কের ছুটি ইত্যাদি কারণে তা পেতে বিলম্ব হয়ে যায়। নিজের সংস্থাতে এই বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করে প্রতি মাসের একেবারে শেষেই বেতন দেওয়া চালু করেছিলেন। তাঁর মতে, মাস পড়ে যাওয়ার পর যদি বেতনের বিলম্ব হয় সেক্ষেত্রে ইএমআই থেকে ভাড়া, সবেতেই দেরি। আর তার ফলে অস্বস্তি বাড়তে থাকা। আর সেই ভাবনা থেকেই এখন তাঁর আইডিয়া, বেতন দেওয়া হোক দুই ভাগে। তাঁর মতে, এক্ষেত্রে লাভ হবে চাকরিজীবীরও, আবার চাকরিদাতা সংস্থাগুলিরও। উপকার হবে অর্থনীতিরও।

    তবে এই আইডিয়া অনেকের কাছে আকর্ষণীয় বলে মনে হলেও, বিশেষজ্ঞদের একাংশআবার সতর্কও করছেন। তাঁরা বোঝাচ্ছেন, কেবল বেতনের পৌনঃপুনিকতা বা ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তন করলেই গভীরতর আর্থিক চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা কম। আর্থিক সাক্ষরতা, মজুরি বৃদ্ধি এবং ব্যয়ের অভ্যাসে উন্নতি না ঘটলে, অনেক কর্মী— তাঁরা যত ঘনঘনই বেতন পান না কেন, সেই একই ধরনের আর্থিক চাপের সম্মুখীন হতে থাকবেন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)