• ‘বহিষ্কারের চিঠি বৈধ নয়’, তৃণমূলের সংবিধান তুলে ঋতব্রত-প্রশ্নে জবাব স্পিকারের
    প্রতিদিন | ০৫ জুন ২০২৬
  • তৃণমূলের সই-কাণ্ডের পর্দাফাঁস করে রাতারাতি সাসপেন্ড হয়েছিলেন তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। আর এই ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘নব্য তৃণমূল’ গড়ে দলের রাশ টেনেছেন নিজেদের হাতে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতাও হয়ে গিয়েছেন ঋতব্রত। তবে এই গোটা ঘটনা ঘিরে ঘুরপাক খাচ্ছিল একাধিক প্রশ্ন। ঋতব্রতকে তৃণমূল বহিষ্কার করেছে, তাহলে তিনি কীভাবে ‘নতুন তৃণমূল’ গড়লেন? এবার সেই প্রশ্নের জবাব দিলেন খোদ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু।

    দু’দিনের মধ্যে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। মাত্র কুড়ি মিনিটের মধ্যে ঋতব্রতকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর বক্তব্য, নিয়ম মেনে ঋতব্রতদের বহিষ্কার করা হয়নি। তিনি জানান, “দলের সংবিধান অনুযায়ী বহিষ্কারের চিঠি বৈধ নয়। বহিষ্কারের আগে শোকজ করতে হয়। সময় দিতে হয় বিধায়কদের। একদিনেই হঠাৎ করে বহিষ্কার করা যায় না। ওদের কাছে বিধায়ক সংখ্যা আছে। তাই মেনে নিয়েছি।”

    বিরোধী দলনেতার প্রস্তাব দিয়ে তৃণমূল যে চিঠি দিয়েছিল, তাতে ত্রুটি ছিল বলে দাবি করেন স্পিকার। তাই তা গ্রহণ করা হয়নি। স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু বলেন, “আইন মেনে কাজ করেছি। কোনও কিছু বেশিও করিনি, কমও করিনি। এর আগে দলের চিঠিতে স্বাক্ষর নিয়ে সমস্যা ছিল। আমরা তার তদন্তভার সিআইডিকে দিয়েছি।”

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দেশের রাজধানীতে বসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, অর্জুন রাম মেঘওয়াল এবং রাজ্য বিধানসভার সচিব সত্যেন্দ্রনাথ দাসের পাশে বসে ঋতব্রতদের বহিষ্কার প্রসঙ্গে ঘোষণাটি করেন স্পিকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে স্পিকারের এই বক্তব্য কেন্দ্র-রাজ্য সমীকরণে কোনও নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সব মিলিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহিষ্কারের জল আগামীতে কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।
  • Link to this news (প্রতিদিন)