কয়লা খনিতে চাকরি দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা! টাকা ফেরানোর দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে ধরনায় বসলেন প্রতারিতরা। জুতো হাতে চলল বিক্ষোভ। বাড়ির দেওয়ালে পোস্টার সাঁটিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।
কয়লা খনিতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ! টাকা ফেরত এর দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে চলল ধরনা। পোস্টার সাঁটালো প্রতারিতরা। অভিযোগের তির অন্ডাল থানার উখড়া পোস্ট অফিস পাড়ার বাসিন্দা তথা এলাকার পরিচিত তৃণমূল নেতা অমর ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত নেতার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অমর ভট্টাচার্য খান্দরা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর ভাই সমীর ভট্টাচার্য ওই এলাকার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি।
অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত কয়লা উত্তোলক সংস্থা ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এ চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু যুবকের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন অমর ভট্টাচার্য। দীর্ঘদিন কেটে গেলেও কারও চাকরি না হওয়ায় প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসে। বৃহস্পতিবার বাড়ির সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রতারিতরা। টাকা ফেরতের দাবিতে বাড়ির গেটের সামনে প্রতিবাদে সামিল হন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, কেউ নিজের ছেলের চাকরির জন্য, আবার কেউ ভাই বা পরিবারের অন্য সদস্যের চাকরির আশায় লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু চাকরি তো দূরের কথা, টাকা ফেরত চাইতে গেলেও অপমানিত হতে হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
বিক্ষোভকারী ঝর্না রায় অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলের চাকরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অমর ভট্টাচার্য তাঁর কাছ থেকে ১২ লক্ষ টাকা নেন। এর মধ্যে ১০ লক্ষ টাকা অভিযুক্তের ভাইপো জিৎ ভট্টাচার্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। এই সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই বুধবার রাতে জিৎ ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করে অন্ডাল থানার উখড়া ফাঁড়ির পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। পুলিশ পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে মূল অভিযুক্তের সন্ধানেও তল্লাশি শুরু করেছে।