মমতার পাশ থেকে সরলেন ‘শহিদ জননী’ ফিরোজাও! ‘ঘরের ছেলে’ শুভেন্দুর সঙ্গে থাকার বার্তা
প্রতিদিন | ০৫ জুন ২০২৬
তৃণমূলে মহাবিদ্রোহ। তৈরি হয়েছে ‘নব্য তৃণমূল’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিষদীয় দল কারা আসল তৃণমূল তা নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই আবহে মমতার সঙ্গ ছাড়লেন নন্দীগ্রামের শহিদের মা তথা প্রাক্তন বিধায়ক ফিরোজা বিবি। শেষের দিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শহিদ পরিবারদের যথাযোগ্য সম্মান দেয়নি বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন ফিরোজা। এবার সাফ জানালেন, নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের নেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশে রয়েছেন তিনি।
‘শহিদ জননী’ ফিরোজা ২০০৯ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত নন্দীগ্রামের বিধায়ক ছিলেন। তারপর তাঁকে পাঁশকুড়া বিধানসভার বিধায়ক হন। ২০২১ সালেও তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হন। কিন্তু ছাব্বিশের নির্বাচনে তাঁকে এমনকী কোনও শহিদ পরিবারের সদস্যকে প্রার্থী করেনি তৃণমূল। নির্বাচনের পর তৃণমূলের মুষল পর্ব শুরু হওয়ার পর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে থাকার বার্তা দিলেন ফিরোজা বিবি। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রাম আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকায় থাকা শুভেন্দু অধিকারীর পাশেই ছিল নন্দীগ্রামের মানুষ। আর এই আন্দোলন থেকেই রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। এ বারের নির্বাচনেও সেই নন্দীগ্রাম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু পাশেই থেকেছে। নন্দীগ্রামবাসী হিসেবে আমি শুভেন্দু অধিকারীর পাশেই আছি, থাকব।” তিনি আরও বলেন, “আমি চাই ব্যক্তিস্বার্থ, ধর্ম বাদ দিয়ে সকলকে নিয়ে চলুক বর্তমান বিজেপি সরকার। কর্মসংস্থান হোক, রাজ্যের উন্নয়ন হোক। নন্দীগ্রাম থাকুক শান্তিতে।”
উল্লেখ্য, একের পর নেতা দল ছাড়ছেন। পদত্যাগ করছেন বিভিন্ন পুরনিগমের মেয়ররা। চন্দননগরের পর বৃহস্পতিবার বিধাননগরের মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গী কৃষ্ণা চক্রবর্তী। কলকাতা পুরসভায় মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন ফিরহাদ হাকিম। বরো চেয়ারম্যানরাও সরে দাঁড়িয়েছেন। এবার নন্দীগ্রাম যে ভদ্রা আসন থেকে তৃণমূল সরকারের শিকড় মজবুত হয়েছিল। সেই নন্দীগ্রামের শহিদ জননী বলে পরিচিত ফিরোজা বিবি সরে গেলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশ থেকে।