• অবশেষে কেরালায় বর্ষা, আশায় বুক বাঁধছে বাংলাও
    এই সময় | ০৫ জুন ২০২৬
  • এই সময়: অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান। মৌসম ভবনের চারটি পূর্বাভাস ব্যর্থ করে শেষ পর্যন্ত ভারত ভূখণ্ডে প্রবেশ করল দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমী বাতাস। বৃহস্পতিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর কেরালায় আনুষ্ঠানিক ভাবে বর্ষা প্রবেশের কথা ঘোষণা করে স্বস্তি দিল গোটা দেশকে। কেরালায় বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশের পরেই আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছে বাংলাও।

    ২০০৫ থেকে দেশে বর্ষার প্রবেশ সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে শুরু করেছে মৌসম ভবন। সাধারণত, পূর্বাভাসে দেওয়া তারিখের চার দিন পর্যন্ত ‘এদিক–ওদিক’ হওয়াকে ‘স্বাভাবিক’ বলেই মনে করা হয়। ২০০৫ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ২১ বছরে মাত্র দু’বার মৌসম ভবনের ঘোষণা করা দিনের ছ’দিন বা তার বেশি পরে দেশে বর্ষাকাল শুরু হওয়ার নজির রয়েছে। প্রথমবার এই ঘটনা ঘটেছিল ২০১৫–এ। দ্বিতীয় বার ঘটল এ বছর। দেশে মৌসুমী বায়ুর আগমনের নির্ধারিত দিন ১ জুন। এ বছর মৌসম ভবন জানিয়েছিল ২৬ মে দেশে বর্ষা শুরু হবে। কিন্তু বাস্তবে বর্ষা শুরু হলো পূর্বাভাসের ন’দিন পরে।

    বুধবার রাত থেকে কেরালার বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বৃষ্টিপাতের পরিপ্রেক্ষিতে মৌসম ভবন সে রাজ্যের আলাপুঝা, কোট্টায়াম ও এর্নাকুলাম জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করেছে। দেশে ‘মনসুন অনসেট’ ঘোষণা হওয়ার আগে থেকেই তামিলনাডুর কোয়েম্বাটোরে তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ওই জায়গায় ২১৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু অগ্রসর হয়ে আরব সাগরের প্রায় পুরোটা, সমগ্র লক্ষদ্বীপ, কেরালা ও মাহে, কর্ণাটক এবং তামিলনাড়ুর কিছু অংশ এবং বঙ্গোপসাগরের অনেকটা অংশে বিস্তৃত হয়েছে।

    সাধারণত কেরালায় বর্ষা প্রবেশের কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলাতেও বর্ষা শুরু হয়ে যায়। তাই বৃষ্টির আশা করা অযৌক্তিক নয়। কিন্তু আবহবিদরা জানাচ্ছেন, বাংলার বর্ষাকে স্পষ্ট দু’টো ভাগে ভাগ করা যায় — উত্তরবঙ্গের বর্ষা ও দক্ষিণবঙ্গের বর্ষা। দু’ক্ষেত্রেই বর্ষা প্রবেশের দিনে বড় রকমের হেরফের বা অনিয়মিত পরিবর্তন দেখা যায়। যেমন আলিপুর হাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরে উত্তরবঙ্গে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি বর্ষা এসেছে ২০২৫–এ। গত বছর উত্তরবঙ্গে বর্ষা শুরু হয়েছিল ২৯ মে। আবার রাজ্যের উত্তর প্রান্তে সবচেয়ে দেরিতে বর্ষা এসেছিল ১২ জুন — ২০২০ ও ২০২৩–এ। অন্য দিকে দক্ষিণবঙ্গ গত কয়েক বছরের মধ্যে দ্রুততম বর্ষাকাল পেয়েছে ২০২১–এ। সে বছর ১১ জুন বর্ষা এসেছিল দক্ষিণে। অন্যদিকে রাজ্যের দক্ষিণ সবচেয়ে দেরি করে বর্ষা পেয়েছে ২০২৪–এ। ওই বছর রাজ্যের দক্ষিণভাগে বর্ষা এসেছিল ২১ জুন।

    কাজেই বাংলায় যে ঠিক কবে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে, সেই বিষয়টি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

  • Link to this news (এই সময়)