এই সময়: প্রথম চার দিনে তেমন কিছু বোঝা না গেলেও কিছু দিন পর থেকেই ক্ষতিটা স্পষ্ট হবে বলে আশঙ্কা করছেন অ্যাপ ক্যাব চালকদের বড় অংশই। রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ১ জুন থেকে সরকারি বাসে মহিলা যাত্রীদের আর কোনও টিকিট লাগছে না। এমনকী, সরকারি বাস যদি বাতানুকূলও (এসি) হয়, তা হলেও সেই বাসে মহিলাদের টিকিট কাটতে হচ্ছে না। প্রশাসনিক এই সিদ্ধান্তই আগামী দিনে অ্যাপ ক্যাবের ব্যবসায় ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শহরে অ্যাপ ক্যাবের সংখ্যা ২০ থেকে ২২ হাজারের কাছাকাছি। প্রতিদিন শহরের প্রায় দেড় লক্ষের কাছাকাছি যাত্রী অ্যাপ ক্যাবে যাতায়াত করেন। বিশেষ করে প্রবল গরমের সময়ে এসি–র স্বাচ্ছন্দ্য পেতে যাত্রীদের অনেকেই অ্যাপ ক্যাবের উপরে নির্ভর করেন। এই যাত্রীদের মধ্যে মহিলার সংখ্যা নেহাত কম নয়। কিন্তু সরকারি সিদ্ধান্ত অ্যাপ ক্যাবের ব্যবসার বিন্যাসটাই আমূল বদলে দিতে চলেছে। কারণ, অ্যাপ ক্যাবে ভাড়া বিভিন্ন স্টেজে বিভিন্ন, কিন্তু সরকারি এসি বাসে বিনা পয়সাতেই যাওয়া যাবে। তা হলে যাত্রী নগদ খরচ করে কেন অ্যাপ ক্যাবে চাপবেন? প্রথম কয়েক দিনে কিছু না বোঝা গেলেও যত সময় যাবে তত বেশি মহিলা অ্যাপ ক্যাব ছেড়ে সরকারি বাসে উঠতে শুরু করবেন বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অ্যাপ ক্যাব চালকদের সংগঠন অনলাইন ক্যাব অপারেটর্স গিল্ড–এর সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘গত কয়েক দিনে চার দফায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। কিন্তু আমাদের ভাড়ার বিন্যাস একই আছে। অর্থাৎ আমাদের লাভের পরিমাণ কমছে। এমন পরিস্থিতিতে যদি যাত্রীদের একটা বড় অংশ ক্যাব থেকে সরকারি বাসের দিকে চলে যান, তা হলে আমরা বড় রকমের ক্ষতির মুখে পড়ব। সেই ক্ষতি কী ভাবে পূরণ হবে, জানি না।’ ইতিমধ্যেই রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের কাছে গিল্ডের তরফে ভাড়া পুনর্বিন্যাসের আবেদনও জানানো হয়েছে।
রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের হিসেবে, গোটা রাজ্যে ১,৭৮৬টি চালু সরকারি বাস রয়েছে। এর মধ্যে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় পরিষেবা দেয় এমন সরকারি বাসের সংখ্যা ৭০০–র কাছাকাছি। মহিলা যাত্রীরা যদি ক্রমশ অন্য বেসরকারি গণপরিবহণ ছেড়ে সরকারি বাসের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন, তা হলে শুধু অ্যাপ ক্যাব নয়, বেসরকারি বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রেও আশঙ্কা আছে বলে মনে করা হচ্ছে।