এই সময়: পুলিশ–সহ রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে শূন্য পদের সংখ্যা কয়েক লক্ষ। চুক্তির ভিত্তিতে নিযুক্ত কর্মী অথবা অবসরপ্রাপ্তদের চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে বিভিন্ন দপ্তরে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ চলেছে তৃণমূল জমানায়। কলকাতা ও রাজ্য পুলিশে গত ১৫ বছরে যেটুকু বড় নিয়োগ হয়েছে, তা শুধুমাত্র চুক্তিভিত্তিক সিভিক ভলান্টিয়ারে। বিজেপি সরকার রাজ্যের দায়িত্ব নিয়েই সরকারি পদে নিয়োগের নতুন নীতি ঘোষণা করতে চলেছে।
এই নীতি চূড়ান্ত করতে আজ, শুক্রবার নবান্নে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)–সহ পাঁচটি রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের বৈঠক ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি নিয়োগে তাঁর সরকার স্বচ্ছতা আনতে চায়। পূর্বতন সরকারের জমানায় এসএসসি, প্রাইমারি, পুরসভায় নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই–ইডির মতো সংস্থাগুলি তদন্ত করছে। পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগের হাত থেকে রেহাই পায়নি রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনও। ডব্লিউবিসিএসে প্রশান্ত বর্মন–সহ বেশ কয়েকজনের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগেও মামলা বিচারাধীন।
নবান্ন সূত্রের খবর, আজকের বৈঠকে পিএসসি ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড, হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড, মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন, পূর্বতন সরকারের আমলে তৈরি পশ্চিমবঙ্গ গ্রুপ-ডি রিক্রুটমেন্ট বোর্ডকে ডাকা হয়েছে। রাজ্য সরকার নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে পরীক্ষা পদ্ধতিও বদলাতে চায়, যাতে স্বজনপোষণ, আর্থিক লেনদেন বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ না ওঠে। এর জন্য ইন্টারভিউয়ে নম্বর কমিয়ে লিখিত পরীক্ষা ও এডুকেশনাল কোয়ালিফিকেশনে নম্বর বাড়ানোর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের ক্ষেত্রে এই নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
রাজ্য সরকারি চারটি কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সরকারের প্রস্তাবিত নিয়োগ নীতি তৈরির কথা জানিয়েছিলেন। সেই সময়ে ‘কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ়’-এর সভাপতি শ্যামল মিত্র মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন, পিএসসি-কে দুর্নীতিমুক্ত করতে স্বশাসিত সাংবিধানিক সংস্থায় রূপান্তরিত করা হোক। পূর্বতন তৃণমূল সরকার এই সংস্থার সাংবিধানিক স্বশাসনের স্বীকৃতি কেড়ে রাজ্য অর্থ দপ্তরের অধীনস্থ করে। তারপর থেকেই পিএসসি–র নিয়োগে দুর্নীতির ভূরি ভূরি অভিযোগ ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জমানায় রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মচারী পদে নিয়োগের দায়িত্ব ছিল পিএসসি–র হাতে।
ইতিমধ্যেই রাজ্যের সচিবায়, ডিরেক্টরেট ও রিজিওনাল অফিসে শূন্য পদের সংখ্যা কত জানতে চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে অর্থ দপ্তর রাজ্যের ৪৪টি দপ্তরকে চিঠি দিয়েছে। বুধবারের মধ্যেই তাদের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা পড়ে যাওয়ার কথা। এই রিপোর্টকে সামনে রেখেই নবান্ন নিয়োগ নীতি চূড়ান্ত করতে চায়।
সূত্রের দাবি, প্রাথমিক ভাবে ডিসেম্বরের মধ্যেই নবান্ন রাজ্যে ৫০ হাজার স্থায়ী পদে নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। এর রাজ্য পুলিশে সাব ইনস্পেক্টর ও কনস্টেবল মিলিয়ে ১০ হাজার এবং কলকাতা পুলিশে তিন হাজার নিয়োগ করার প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়াও জেলা, মহকুমা ও ব্লক অফিসের মতো রাজ্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বহু শূন্য পদে নিয়োগের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হতে পারে। বেশির ক্ষেত্রেই সরকারি প্রকল্প রূপায়ণে এই সব অফিসে চুক্তিভিত্তিক অথবা অবসরপ্রাপ্তদের পুনর্নিয়োগ করে কাজ চালাতে হচ্ছে। নবান্ন সূত্রের খবর, তৃণমূল সরকারের জমানায় রাজ্যের যা আর্থিক অবস্থা, তাতে এখনই সমস্ত শূন্যপদ পূরণ করা সম্ভব হবে না। প্রথম দফায় ৫০ হাজার নিয়োগ করতে পারলে পরে ধাপে ধাপে বাকি শূন্য পদে নিয়োগ সম্ভব হবে। কারণ নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সরকারের লক্ষ্যই হলো, রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। যাতে এ রাজের তরুণ ও যুবকদের কাজের সন্ধানে অন্য রাজ্যে যেতে না হয়।