• ‘বাংলার সামুদ্রিক অর্থনীতির নবজাগরণের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল...’ লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী
    News18 বাংলা | ০৫ জুন ২০২৬
  • বঙ্গে জলপথে উন্নয়নের নতুন রূপরেখা নতুন সরকারের! একদিকে থমকে থাকা আদানিদের গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্পের পুনরুজ্জীবন, অন্যদিকে কলকাতায় জলপথে যোগাযোগের উন্নতিতে ওয়াটার মেট্রো প্রকল্পের সূচনা— একসঙ্গে বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা কেন্দ্র–রাজ্যে বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকারের। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় বন্দর ও জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর কলকাতায় এসে নবান্নে দীর্ঘ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। সেই বৈঠকের পরেই একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, ‘‘বাংলার সামুদ্রিক অর্থনীতির নবজাগরণের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। পশ্চিমবঙ্গের সামুদ্রিক বাণিজ্য, জলপথ পরিবহণ এবং পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের স্বার্থে একাধিক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে :-

    *পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দাদনপাত্রবাড় এলাকায় একটি নতুন গভীর-সমুদ্র বন্দর নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ১,৭০০ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে।

    * পশ্চিমবঙ্গে সাগরমালা ২.০-এর আওতায় প্রায় ২২,৭০০ কোটি টাকার সামুদ্রিক পরিকাঠামোর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

    * কলকাতাকে ভারতের ১৮তম ওয়াটার মেট্রো সিটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৪৪টি নতুন জেটি এবং ২৫টি জাতীয় জলপথ জেটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    * গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানের ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    * দুর্গা পুজোর আগেই কলকাতা ও হাওড়ার ৬টি ঐতিহাসিক ঘাটের সংস্কার ও সৌন্দর্যায়ন সম্পন্ন করা হবে।

    * বলাগড়ে অভ্যন্তরীণ জলপথের ড্রেজিং এবং হুগলি টানেল প্রকল্পের কাজ করা হবে।

    * বন্দরের জমিতে EWS ও LIG (অর্থনৈতিক দুর্বল) পরিবারের জন্য সল্প মূল্যের আবাসন গড়ে তোলা হবে।

    * সাঁকরাইল ও গার্ডেনরিচের মধ্যে রো-রো পরিষেবা চালু করা হবে, যা যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে নতুন গতি আনবে।

    * শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দরের সহযোগিতায় একটি সমুদ্র ও ঐতিহ্য জাদুঘর নির্মাণ করা হবে।

    তিনি আরও লেখেন,  ‘‘এই সিদ্ধান্তগুলি শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি নয়, কিংবা শিল্প সম্মেলনের মঞ্চ থেকে অলীক স্বপ্নের ঘোষণা নয়। এগুলি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ইতিমধ্যেই প্রদান করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই প্রকল্পগুলি বাস্তব রূপ পাবে।

    আরও পড়ুন- রহস্যের ঘেরাটোপ পেরিয়ে কোন পথে ‘দেবী’? জানতে হলে অবশ্যই দেখতে হবে এই সিরিজ

    পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত সুন্দর। শক্তিশালী নদীপথ ব্যবস্থা, দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং বিশ্বের অন্যতম নদীমাতৃক মহানগর কলকাতা আমাদের অমূল্য সম্পদ। অতীতে রাজনৈতিক উদাসীনতা ও দূরদর্শিতার অভাবে আমরা এই সম্ভাবনার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে পারিনি।

    আমি পশ্চিমবঙ্গের জনগণের কাছে অঙ্গীকার করছি বাংলার বন্দর, সামুদ্রিক বাণিজ্য, উপকূলীয় অর্থনীতি, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ জলপথকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পুনরায় আত্মপ্রকাশ করে। আজকের এই উদ্যোগগুলি সেই বৃহত্তর স্বপ্নপূরণের পথে প্রথম কয়েকটি দৃঢ় ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ। আমাদের সোনার বাংলা আবারও পূর্বের বন্দর অর্থনীতির সোনালী অধ্যায় স্পর্শ করবে তবে তা অত্যন্ত আধুনিক ভাবে হবে…৷’’
  • Link to this news (News18 বাংলা)