• ছাদের দরজায় তালা! হোটেল থেকে বেরোনোর পথই পাননি আবাসিকরা, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর
    বর্তমান | ০৫ জুন ২০২৬
  • দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ‘সেন্সর লকড’ প্রবেশ পথ বা স্থায়ীভাবে বন্ধ থাকা কাচের জানালাই শুধু নয়। বুধবার দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগরের যে ‘বেআইনি’ হোটেলে আগুন লেগে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে তালাবন্ধ ছিল ছাদের দরজাও। ওই তালার চাবি ছিল না হোটেলের কোনো কর্মীর কাছে। এর ফলে আগুন লাগার পর মালব্য নগরের সেই হোটেল থেকে বেরনোর কোনো রাস্তা খুঁজে পাননি আবাসিকরা। বৃহস্পতিবার পুলিশি তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, ওই হোটেলের কোনো বৈধ নথিপত্রই ছিল না। মাত্র ছ’টি ঘরের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছিল জনৈক জয় মিশ্রের নামে। অথচ হোটেলের মালিক ছিলেন লভকেশ বাজাজ নামে এক ব্যক্তি। বুধবার রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিন সাকেত আদালতে তোলা হলে তাঁকে চারদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, বুধবার প্রথমে আগুন লাগে ওই হোটেলের গ্রাউন্ড ফ্লোরের একটি রেস্তরাঁয়। চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, ওই রেস্তরাঁ চালানোরও কোনো অনুমতি হোটেল কর্তৃপক্ষের ছিল না। যে গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করা হয়েছে, সেটাও বেআইনি। ঘটনাস্থল থেকে বেআইনিভাবে মজুত করা একাধিক সিলিন্ডার উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীরা নিশ্চিত, সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েই ওই ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ হোটেলে আগুন লেগেছে। হোটেল থেকে প্রায় ৬০টি মোবাইল ফোন, ৩০টির মতো পাসপোর্ট উদ্ধার হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, সেগুলি সবই আবাসিকদের। পাসপোর্টের সাহায্যেই হোটেলের ঝলসে যাওয়া আবাসিকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালেই হাসপাতালে ভরতি থাকা আহতদের সঙ্গে দেখা করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে এককালীন ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের এককালীন পাঁচ লক্ষ টাকা করে অর্থসাহায্যের কথা ঘোষণা করেছে দিল্লির বিজেপি সরকার। বুধবার রাতেই দিল্লি সিএমও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আজ, শুক্রবার এসংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, যদি কোনো প্রভাবশালীর বিরুদ্ধেও গাফিলতির অভিযোগ ওঠে, তাহলে তাঁকেও রেয়াত করা হবে না। এব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে তদন্তকারী আধিকারিকদের। 

    এদিকে, বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত চিকিৎসা করাতে আসা বিদেশিরা। এর ফলে মালব্য নগরে সস্তার হোটেল এবং দৈনিক ভিত্তিতে ভাড়া নেওয়া ছোটো ছোটো ঘর ছাড়ার হিড়িক তৈরি হয়েছে ভিনদেশিদের মধ্যে। তাঁদের একটি বড়ো অংশই নাইজেরিয়া এবং সোমালিয়ার বাসিন্দা। মালব্য নগরের সংশ্লিষ্ট এলাকায় পৌঁছে দেখা গিয়েছে, মালপত্র নিয়ে সপরিবার রাস্তায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন বিদেশি নাগরিকরা। অ্যাপ-ক্যাব বুকিংয়ের চেষ্টা করছেন অনেকে। কেউ কেউ অটো ভাড়া নিয়ে দরদাম করছেন। ‘সস্তা’র তুলনায় ‘নিরাপদ’ হোটেলই আপাতত তাঁদের কাছে অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
  • Link to this news (বর্তমান)