• শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে জড়িয়ে ধরেছিলেন দম্পতি
    বর্তমান | ০৫ জুন ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্ত্রীকে আগুনের লেলিহান শিখা থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন স্বামী। হোটেলে আগুন লাগার পরেই শৌচাগারে নিজেদের আটকে ফেলেছিলেন তাঁরা। কমোডের উপর বসেছিলেন স্ত্রী। পাশের চেয়ারে বসা স্বামীর কাঁধে মাথা। স্ত্রীকে আগুন থেকে আগলে রাখতে জড়িয়ে ধরেছিলেন তিনি। দু’জনেই হয়তো ভেবেছিলেন, কেউ না কেউ ঠিক উদ্ধার করবে। কিন্তু তা আর হল না। ওই অবস্থাতেই প্রাণ হারালেন দু’জনে। উদ্ধারকাজ চলাকালীন এই দৃশ্য দেখে আবেগঘন হয়ে পড়েছিলেন দমকল কর্মীরাও। হুইল চেয়ার থেকেও উদ্ধার হয়েছে দগ্ধ দেহ।  বুধবার দিল্লির মালব্য নগরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এমনই মানবিক ছবি সামনে এসেছে।

    পুলিশ সূত্রে খবর,  উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন বেশ কয়েকজন স্থানীয় যুবক। তাঁদেরই মধ্যে একজন মহম্মদ শোয়েব। একতলার একটি শৌচাগার ভিতর থেকে আটকানো দেখে তা  ভেঙে ভিতরে ঢোকেন শোয়েব। দেখেন, একে অপরকে জড়িয়ে রয়েছেন স্বামী-স্ত্রী। দু’জনের শরীরে প্রাণের চিহ্নমাত্র নেই। সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। তাঁর কথায়, ‘কমোডের উপর বসা অবস্থায় উদ্ধার হয় মহিলার দেহ। পাশেই চেয়ারে বসেছিলেন স্বামী। দু’জনে একে অপরকে জড়িয়ে বসেছিলেন। সম্ভবত ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। দেহ দু’টি কালো হয়ে গিয়েছিল।’

    শোয়েবের পাশাাপশি উদ্ধারকাজ হাত লাগিয়েছিলেন মহম্মদ আফজল, ওয়াসিম রাজা, আশরফ খান ও আমির খান। একের পর এক মর্মান্তিক দৃশ্যের সাক্ষী  তাঁরা। পেশায় হাসপাতাল কর্মী আশরাফ বলেন, ‘একটি ঘরে বিছানার কোণে এক দম্পতির সন্ধান মেলে। আগুনে পুরোপুরি ঝলসে গিয়েছিল দু’টি দেহ। গোটা বিল্ডিং ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল। একটা সময়ে মনে হয়েছিল, আমরাও হয়তো মরে যাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘একতলায় প্রথমে এক যুবতীর দগ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়। কিছুটা এগতেই হুইলচেয়ারে এক ব্যক্তির দেহ পাওয়া যায়। একটু দূরেই সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়েছিলেন তিন বিদেশি নাগরিক। সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর দিতে শুরু করি।’
  • Link to this news (বর্তমান)