• শিলিগুড়ি জেলা হবেই, ধূলায় মিশে যাবে তৃণমূল: আনন্দময়
    বর্তমান | ০৫ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: পদ্ম ফুলের মালা, পুষ্প বৃষ্টি ও জয় শ্রীরাম ধ্বনি। সেইসঙ্গে ঢাক, কাসর ও ঘণ্টার আওয়াজ। বৃহস্পতিবার সকালে এনজেপি স্টেশনে এভাবেই স্বাগত জানানো হয় প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মনকে। জনজোয়ারে ভেসে যান মন্ত্রী। তাঁকে হুডখোলা জিপে চাপিয়ে পাথারঘাটা পর্যন্ত বাইক মিছিল করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। উচ্ছ্বসিত মন্ত্রী বলেন, শিলিগুড়ি জেলা হবেই। আর দুর্নীতিতে ভরা তৃণমূল কংগ্রেস দলটা ধূলায় মিশে যাবে। উত্তরবঙ্গ তো বটেই রাজ্যে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রেকর্ড ভোটে জেতা বিধায়কদের মধ্যে আনন্দময় অন্যতম। মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের দু’বারের এই বিধায়ক বিজেপির দুর্দিনের কর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত। এসবের জন্যই তাঁকে মন্ত্রী করার দাবি ওঠে। তাতে দলে সিলমোহর দেয়। দু’দিন আগে লোকভবনে তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। বুধবার মন্ত্রিসভার মিটিংয়ের পর তিনি কলকাতা থেকে ট্রেনে এনজেপির উদ্দেশে রওনা দেন। এই খবর চাউর হতেই বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই এনজেপি স্টেশন চত্বরে জড়ো হন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।

    ট্রেন থেকে আনন্দময় নামতেই ঢাক, কাসর ও ঘণ্টার আওয়াজে সরগরম হয়ে ওঠে স্টেশন চত্বর। সঙ্গে চলে জয় শ্রীরাম ধ্বনি। স্টেশন থেকে বের হতেই কেউ কেউ পদ্ম ফুলের মালা পরিয়ে মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। কেউ কেউ মন্ত্রীকে উত্তরীও পড়ান। সঙ্গে চলে পুষ্প বৃষ্টি। তাঁকে ঘিরে ধরেন দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। কার্যত মন্ত্রী জনজোয়ারে ভেসে যান। স্টেশনের বাইরে রাখা ছিল লাল রংয়ের হুডখোলা জিপ। দলীয় ঝান্ডায় তা সাজানো। জনস্রোতের ধাক্কায় সেই জিপের সামনে যান। এখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন, কাটমানি ও সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করা এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই আমাদের লক্ষ্য।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি। এই করিডরে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ছে। তাই শীঘ্রই শিলিগুড়ি জেলা হবেই। সেই চেষ্টাই চলাচ্ছি। সেই সঙ্গে বিরোধী দল তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করেছেন মন্ত্রী। বলেন, এই দলটিতে নীতি, আদর্শ বলে কিছু ছিল না। দলে দুর্নীতি ভরে গিয়েছিল। ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই নেতারা বাড়ির বাইরে বের হওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। কাজেই দলটি আর টিকবে না। ধূলায় মিশে যাবে। যদিও, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা কাউন্সিলার কুন্তল রায় বলেন, আমাদের দল নিয়ে মন্ত্রীকে ভাবতে হবে না।

    এরপর মন্ত্রীর হুডখোলা জিপের চাকা গড়ায়। মন্ত্রীর বেশভুষা ছিল সাধারণ। তিনি পথচারীদের উদ্দেশ্যে হাতজোড় করেন। জিপের আগে ছিল বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের বাইক মিছিল। পথারঘাটার মীরজংলা গ্রামে মিছিল শেষ হয়। বিজেপির যুব নেতা প্রীতম সিংহ বলেন, এই প্রথম মাটিগাড়া থেকে আনন্দময় মন্ত্রী হলেন। এটা যেমন ঐতিহাসিক তেমনি আমাদের কাছে গর্বের।   মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জনতার ঢল নিউ জলপাইগুড়িতে। -নিজস্ব চিত্র        
  • Link to this news (বর্তমান)