নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বার্নপুর ত্রিবেণী মোড়ের কাছেই আসানসোল পুরসভার বরো অফিস। উল্টোদিকে ঠান্ডা পানীয়ের দোকান। সেখানে জিরিয়ে নিচ্ছিলেন তুলসী মুদি, অষ্টমী মুদিরা। হাতে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফরম। তাঁরা বলছিলেন, ‘পাশের জেরক্সের দোকান থেকে ৩০ টাকার বিনিময়ে এক একটি ফরম কিনেছি।’ কিন্তু কেন, বরো অফিস থেকে তো বিনামূল্যে দেওয়ার কথা? আকাশ থেকে পড়লেন দরিদ্র পরিবারের দুই বধূ। বললেন, ‘বরো অফিসে তো ফরম দিচ্ছে না। বিভিন্ন জায়গায় ফরমের দাম ১০০ টাকা ৫০ টাকা করেও নিচ্ছে। অনেক খোঁজ করে বরো অফিসের উল্টো দিকের ওই জেরক্সের দোকানে ৩০ টাকা করে নিচ্ছে। সেখান থেকেই সংগ্রহ করলাম।’
ওই জেরক্সের দোকানে যেতেই মহিলার ভিড়। সবাই এসেছেন অন্নপূর্ণার ফরম কিনতে। সম্মিলিতভাবে বললেন, ‘এখানে কিছুটা সস্তায় ফরম পাওয়া যাচ্ছে।’ পরিচয় গোপন করে খোঁজ নিতে গিয়ে জেরক্স দোকানের কর্মী বললেন, ‘দাদা হাতে সময় থাকলে দাঁড়ান। দু’ঘন্টা লাগবে একটা ফরম সংগ্রহ করতে।’ বাসিন্দাদের দাবি, সর্বত্র একই পরিস্থিতি। পুরসভার বরো অফিসগুলি থেকে ফরম মিলছে না। বাধ্য হয়েই জেরক্সের দোকান আসতে হচ্ছে মহিলাদের। সুযোগ বুঝে যে যেমন খুশি দাম নিচ্ছেন। অন্নপূর্ণা যোজনার ফরম বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। শুধু জেরক্সের দোকানই নয়, অনলাইন সাইবার কাফের বয়বসায়ীরাও ফরম বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা করছেন। আবার পূরণ করার জন্য যে যেমন খুশি চার্জ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ। আসানসোলে এসে বিষয়টি জানতে পারেন নারী, শিশুসুরক্ষা ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশেই ছিলেন জেলাশাসক পোন্নমবলম এস। কেন এমন পরিস্থিতি, তা ব্যাখ্যা করেন তিনি। তিনি মন্ত্রীকে জানিয়েছেন, এক সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ ফরম নিতে আসছেন। ফরম শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। একটি পরিবার একটি ফরম নিলেই যথেষ্ট। কিন্তু, পরিবারের যতজন মহিলা রয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকে আলাদা আলাদা ফরম নিচ্ছেন। অগ্নিমিত্রা পাল এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে মহিলাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা অন্নপূর্ণার ফরম সংগ্রহ নিয়ে তাড়াহুড়ো করবেন না। তিন মাস সময় আছে। ধীরে ধীরে ফরম সংগ্রহ করুন। বিনামূল্যে ফরম দেওয়া হবে পুরসভার বরো অফিস, পুরসভার অফিস, ব্লক অফিস ও গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসগুলি থেকে। বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফরম বিতরণ করার জন্য ক্যাম্প করারও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একটি পরিবারের জন্য একটি ফরম পূরণ করলেই যথেষ্ট। যতজন যোগ্য মহিলা থাকবেন, তাঁরা প্রত্যেকেই টাকা পাবেন। এই হয়রানি নিয়ে পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ওপরই দোষ চাপিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যারাই লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছেন তাঁরাই অন্নপূর্ণা পাবেন। খতিয়ে দেখা গেল, প্রচুর বেনিয়াম হয়েছে। পুরুষরা কি করে লক্ষ্মীর ভান্ডার পায়, তা আমাদের মাথায় ঢোকেনি। লক্ষ্মীর ভান্ডারের নাম করে পুরুষদের টাকা না দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে গণেশ ভান্ডার, কার্তিক ভান্ডার বা অন্তত লক্ষ্মীর ছেলে ভান্ডার দিতে পারতেন।