• দীঘার হোটেলে দম্পতির দেহ, তদন্তে পুলিশ
    বর্তমান | ০৫ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কাঁথি: সৈকত শহর দীঘার হোটেলে দম্পতির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল। বৃহস্পতিবার বেলার দিকে ওল্ড দীঘার একটি হোটেলে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বামীকে এবং মেঝেতে স্ত্রীকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। দীঘা মোহনা কোস্টাল থানার পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা হলেন সুশোভন দে (২৮) ও শিউলি নাথ দে (২৩)। তাঁরা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর লোকাল থানা এলাকার বাসিন্দা। শিউলির বাপের বাড়ি পিংলা থানার বসন্তপুর এলাকায়। সুশোভন সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুনের পর ঝুলে পড়েন সুশোভন। পারিবারিক কারণ ও দাম্পত্য অশান্তির কারণে এই ঘটনা বলে অনুমান করছে পুলিশ। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। 

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেড় বছর আগে বিয়ে হয়েছিল সুশোভন ও শিউলির। মঙ্গলবার ওই দম্পতি দীঘা বেড়াতে আসেন। তাঁরা উঠেছিলেন ওল্ড দীঘার একটি হোটেলে। তারপর যথারীতি তাঁরা দীঘা ঘুরে বেড়ান। বুধবার রাতেও সমুদ্রপাড়ে যান। ঘোরাঘুরির পর হোটেলের রুমে ফিরে আসেন। বৃহস্পতিবার দম্পতির বাড়ি ফেরার কথা ছিল। এদিন সকাল ১০টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও তাঁদের রুমের দরজা খোলেনি। হোটেলের কর্মীরা একাধিকবার ডাকাডাকি করলেও সাড়া মেলেনি। সন্দেহ হওয়ায় হোটেল কর্তৃপক্ষ থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশ দরজা ভেঙে দেখে, কাপড়ের ফাঁসে সিলিং ফ্যানে ঝুলছে স্বামীর দেহ আর স্ত্রী মেঝেতে পড়ে। তাঁর গলা সহ দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বুধবার রাতে দম্পতির মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। হোটেল কর্মীরা পুলিশকে জানান, বুধবার রাত অবধি দম্পতির মধ্যে কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু তারপর যে এমন ঘটনা ঘটবে, তা তাঁরা ভাবতে পারেননি। এদিকে পুলিশের তরফে বাড়ির লোকজনকে খবর পাঠানো হলে তাঁরা দীঘায় আসেন। এব্যাপারে ডিএসপি (ডি অ্যান্ড টি) মোহিত মোল্লা বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে  ঠিক কী কারণে ওই দম্পতির মৃত্যু হয়েছে, তা পরিষ্কার হবে। 
  • Link to this news (বর্তমান)