• প্রাইভেট টিউশন বন্ধে মানবাধিকার কমিশনের গুঁতো, ডিআইদের ব্যবস্থা নিতে বলল শিক্ষাদপ্তর
    বর্তমান | ০৫ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারে অধীনে থাকা স্কুলের শিক্ষকরা যথেচ্ছ প্রাইভেট টিউশন করছেন। এর ফলে লঙ্ঘিত হচ্ছে শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯-এর ২৮ নম্বর ধারা। একই সঙ্গে অবমাননা করা হচ্ছে কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া এই সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞামূলক অর্ডারের। তাই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চিঠি পাঠিয়েছে শিক্ষাদপ্তরকে। তার জেরে শিক্ষাদপ্তর বৃহস্পতিবার ডিআইদের নির্দেশ দিয়েছে, এরকম কোনো শিক্ষক যাতে প্রাইভেট টিউশনে নিযুক্ত না থাকেন, তা দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। প্রয়োজনে স্কুলেই যাতে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য রেমেডিয়াল ক্লাস করানো হয়, সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    প্রাইভেট টিউটরদের বিভিন্ন সংগঠন স্কুলে কর্মরত শিক্ষকদের গৃহশিক্ষকতার বিরুদ্ধে বহুদিনই সরব হয়েছে। এ নিয়ে একটি মামলাও চলছে কলকাতা হাইকোর্টে। এমন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়ে রাজ্য শিক্ষাদপ্তর তথা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছিল আদালত। তবে, এসবের মধ্যেও মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের প্র্যাকটিক্যাল বা প্রজেক্টে নম্বর কেটে দেওয়া, টেস্টে আটকে দেওয়া প্রভৃতির ভয় পড়ুয়াদের দেখিয়ে বহাল তবিয়তে প্রাইভেট টিউশন করে চলেছেন বহু স্কুলশিক্ষক। প্রাইভেট টিউটর সংগঠনগুলি তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক জ্বলন্ত প্রমাণ তুলে দিলেও দপ্তর বা পর্ষদ কড়া ভূমিকা নেয়নি বলেই অভিযোগ। বেশকিছু ডিআই একাধিকবার অভিযুক্ত শিক্ষকদের নাম এবং স্কুলের নামের তালিকা প্রকাশ করেছিল। তবে, শেষপর্যন্ত কোনো কঠোর শৃঙ্খলাভঙ্গমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ সাধারণ গৃহশিক্ষকদের।

    পশ্চিমবঙ্গ গৃহশিক্ষক কল্যাণ সমিতির মুখপাত্র সুজিত রায় বলেন, ‘আমরা এর বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংগঠনের অন্যতম কর্তা প্রিয়াঙ্ক কানুনগোকে চিঠি দিয়েছিলাম। নিউ বারাকপুরে আমাদের সংগঠনের রাজ্য স্তরের সম্মেলনের পরে সেই কর্মসূচি নেওয়া হয়। তার জেরেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন এই পদক্ষেপ করেছে।’ 

    গৃহশিক্ষকদের বক্তব্য, সরকারি শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন শুধু শিক্ষার ক্ষতিই করছে না, লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার মানুষের রুটি-রুজিও ছিনিয়ে নিচ্ছে। তাঁরা প্রাইভেট টিউশন করে জীবিকা অর্জন করতে গেলে আর কোনো ছাত্রছাত্রী পাচ্ছেন না। শিক্ষকদের মদত দেওয়ার কাজে যুক্ত থাকছেন প্রধান শিক্ষকরাও। নতুন সরকার ফিজিক্যাল ইনস্পেকশন করে হাতেনাতে ধরে শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করুক এই শিক্ষকদের।
  • Link to this news (বর্তমান)