• নবান্নের উদ্যোগে ‘সাগরমালা’ প্রকল্পে জুড়ছে কলকাতা, চলবে ওয়াটার মেট্রো
    বর্তমান | ০৫ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘ওয়াটার মেট্রো’ প্রকল্প হবে কলকাতায়। বৃহস্পতিবার নবান্নে কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একথা জানান। ওয়াটার মেট্রো প্রকল্পে আধুনিক জলযানে চেপে শহরের বিভিন্ন জায়গায় কম সময়ে যাতায়াত করতে পারবে মানুষ। 

    কলকাতা দেশের ১৮ তম শহর যেখানে এই প্রকল্পটি হবে। জাহাজ মন্ত্রকের এই প্রকল্প কেরলের কোচিতে চালু হয়েছে। এছাড়া পাটনা, বারাণসী, অযোধ্যা, শ্রীনগর, গুয়াহাটি সহ নদীসমৃদ্ধ কয়েকটি শহরে করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। প্রকল্পের খরচ, সময়সীমা, রাজ্য খরচের অংশ বহন করবে কি না ইত্যাদি বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি। 

    গার্ডেনরিচ থেকে হাওড়া, গঙ্গার নীচ দিয়ে টানেল তৈরির প্রকল্প নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি করবে। জাহাজ মন্ত্রক এনওসি দেবে।’ বুধবার নবান্ন সভাঘরে প্রশাসনিক বৈঠকে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম প্রকল্পটির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। কারণ এটি তৈরি হলে বিদ্যাসাগর সেতুর উপর চাপ কমবে। বিশেষ করে কলকাতা বন্দরে আসা পণ্যবাহী গাড়ি জলের নীচের টানেল দিয়ে যাতায়াত করতে পাবে।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগের সরকার কেন্দ্রের সাগরমালা ১ প্রকল্পে যুক্ত না হওয়ায় মানুষের ক্ষতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাগরমালা ২ প্রকল্প শুরু করেছেন। এবার যুক্ত হবে রাজ্য। আগামী ৫ বছরে হবে ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার কাজ। চলতি আর্থিক বছরের মধ্যে শুরুর প্রস্তাব তৈরি হবে। বন্দরের সঙ্গে সংযোগ, উপকূলে জাহাজ চলাচল, অভ্যন্তরীণ জলপথ, উপকূলীয় এলাকায় কম্যুনিটি ও মৎস্যজীবীদের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা নেবে এটি। সুন্দরবন এলাকার দ্বীপগুলিও উপকৃত হবে। গঙ্গাসাগরে সমুদ্রসৈকত উন্নয়নের মাধ্যমে কপিলমুনির মন্দির রক্ষা ও গঙ্গাসাগর মেলাকে একটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে। এখানে ড্রেজিং করবে জাহাজ মন্ত্রক।’ জাহাজমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে ২০৩১ সালের মধ্যে তাঁর মন্ত্রকের মাধ্যমে ১৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা বিনিয়েগ হবে। ৬২ হাজার ৫০০ জনের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য। 

    এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, গঙ্গায় ফেরি চলাচলের জন্য ৪৪টি জেটি তৈরিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এনওসি পাওনা ছিল। ৪১টি এদিনই মিলেছে। বাকি ৩টি খুব শীঘ্রই মিলবে। জাতীয় জলপথ কর্তৃপক্ষ রাজ্যে ২৫টি জেটি তৈরি করছে। তা দু’বছর পর দেখভাল করবে রাজ্য। কলকাতা ও হাওড়ার ছ’টি গঙ্গার ঘাট সাজাচ্ছে বন্দর। সে তালিকায় বাগবাজার, আহিরিটোলা, শোভাবাজার, বাঁধাঘাট, রামকৃষ্ণঘাট আছে। দু’টির কাজ শেষ। ৪টি দ্রুত শেষ হবে। শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদার স্মৃতিধন্য ও অন্যান্য ঐতিহ্যশালী ঘাটগুলিকেও তুলে ধরা হবে। বলাগড়ে মিনি বন্দর প্রকল্প নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সেখানে একাধিক নির্মাণ হবে বলে জানা গিয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)