• মাতলার চর ‘দখল’ করে কাফে শওকতের ছেলের
    বর্তমান | ০৫ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দিব্যি চলছিল ব্যবসা। সন্ধ্যা নামলেই গমগম করত এলাকা। বৃহস্পতিবার সেই ‘অরণ্যের কূলে’ নামের কাফের পর্দা ফাঁস হয়ে গেল। ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়িতে এনআইএ তদন্ত করতে গিয়েছিল। সেখানে তাঁকে না পেয়ে জীবনতলা থানার মৌখালি সেতু সংলগ্ন এলাকায় ছেলে ইমরান মোল্লার মালিকানাধীন কাফেতে হানা দেয় ওই তদন্তকারী সংস্থা। সেখানে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাতলা নদীর চর দখল করে বছর দুই আগে এই কাফেটেরিয়া বানিয়েছিলেন শওকতের ছেলে। তৃণমূল সরকারের আমলে এ নিয়ে পদক্ষেপ তো দূরঅস্ত, কোন অধিকারে নদীর চর দখল করে কাফে বানানো হয়েছে, সে ব্যাপারেও ইমরানকে কোনোদিন প্রশ্ন করা হয়নি। তবে শুধু ইমরানের এই কাফে নয়, মৌখালি সেতু ঘেঁষে গজিয়ে উঠেছে এমন একাধিক ছোটোখাটো দোকান। সবটাই সেচদপ্তরের জমির উপরে বলে অভিযোগ।

    কাফের ভিতর গিয়ে দেখা গেল, বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে সবুজ গালিচার লন। তৈরি করা হয়েছে কাঠের ছোটো ছোটো কটেজ। যে রাস্তা ধরে কাফের ভিতরে প্রবেশ করতে হবে, তাতে বসানো হয়েছে পেভার ব্লক। সন্ধ্যা নামলেই গোটা কাফেটেরিয়া রংবাহারি আলোয় ঝলমল করে ওঠে। চারদিক দেখে মনে হবে, কয়েক একর জমির উপরে গড়ে উঠেছে এই কাফে। এর চারদিক লোহার গ্রিল দিয়ে ঘেরা। অনেকেরই দাবি, এটি সাজানো হয়েছে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে। সেই টাকার উৎস কী, তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

    সূত্রের খবর, বছর দেড়েক আগে ক্যানিং ১ ও ২ নম্বর ব্লক এলাকার মধ্যে সংযোগ তৈরি করতেই এই সেতু বানানো হয়েছিল। যার উদ্বোধন করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেতুর অ্যাপ্রোচ রোডের দু’ধারে ভেড়ি। এলাকার মানুষের দাবি, একসময় এই এলাকা দিয়ে বয়ে যেত মাতলা নদী। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি শুকিয়ে যায়। জায়গাটি সেচদপ্তরের বলে খবর। এভাবে চর দখল করে যে নির্মাণ গড়ে উঠেছে, তা বেআইনি বলেই দাবি করেছে প্রশাসন। তাহলে কি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই বেআইনি নির্মাণ গড়া হয়েছিল? উঠছে প্রশ্ন!

    এলাকার লোকজন বলছেন, এদিন এনআইএ ওই কাফেতে হানা না দিলে এই সুবিশাল চর দখল করে তৈরি হওয়া কাফের অন্দরমহলের ছবি প্রকাশ পেত না। সাধারণ মানুষ জানতেই পারতেন না, ভিতরে কত কোটি টাকার সাজসজ্জা। শওকতের বিরুদ্ধে এবার নদীর চর চুরির অভিযোগ তুলেছেন এলাকার মানুষ। আইএসএফ নেতা আরাবুল ইসলাম বলেন, শওকত ও ইমরান গায়ের জোরে সরকারি জমি দখল করে এই কাফেটেরিয়া গড়ে তুলেছেন। টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। এই নির্মাণ দ্রুত ভেঙে ফেলা দরকার।
  • Link to this news (বর্তমান)