নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বিশ্ব পরিবেশ দিবস মানে বৃক্ষরোপণ, চারাগাছ বিতরণ এবং নানা কর্মসূচি। এটাই পরিচিত ছবি। ব্লক থেকে পুরসভা, সর্বত্রই পালিত হয় পরিবেশ দিবস। বনদপ্তরও লক্ষ লক্ষ চারাগাছ বিতরণ করে। কিন্তু গাছগুলির পরিণতি নিয়ে বা কতগুলি বেঁচে থাকল তার কোনো নির্দিষ্ট হিসেব রাখা হয় না। নজরদারিও তেমন হত না। পরবর্তীকালে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বৃক্ষরোপণের মূল উদ্দেশ্য সফল হত না। এবার সেই ছবিটা বদলানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিতরণ করা গাছের রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টির দিকে জোর দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজ্য সরকারের ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডিতে আটকে না রেখে পরিবেশরক্ষার বাস্তব রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে জেলা প্রশাসন। সেই লক্ষ্যে হাওড়ায় ২৫ হাজারেরও বেশি চারাগাছ রোপণ ও বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্দিষ্ট হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, সরকারি দপ্তর, পরিবেশপ্রেমী সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার জন্য ৫ হাজার চারাগাছ বরাদ্দ হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ব্লকের জন্য ১০০, প্রতিটি পুরসভার জন্য ২০০ এবং কর্পোরেশনের জন্য ৩০০টি করে চারাগাছ দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে। জেলার প্রত্যেক বিধায়ককে বিতরণের জন্য এক হাজার করে চারাগাছ দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক হারে সবুজায়নের পরিকল্পনা।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতে পরিবেশ দিবস বা অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে বিতরণ হওয়া চারাগাছের উপর কার্যত কোনো নজরদারি থাকত না। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বহু গাছ বড়ো হওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে যেত। অনেক ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের সদিচ্ছার অভাব ও সঠিক পরিকল্পনার ঘাটতির কারণেও চারাগাছগুলি নির্দিষ্ট উপভোক্তাদের হাতে পৌঁছত না। ফলে লক্ষ লক্ষ চারা বনদপ্তরের গুদামে পড়ে থেকে নষ্ট হত। তবে এ বছর রাজ্যের নির্দেশে ৫ জুন থেকে আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিতরণ যে চারাগাছ বিতরণ হবে সেগুলির উপর ধারাবাহিক নজরদারি চলবে। গাছগুলির অবস্থান ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে জিপিএস ট্যাগিংয়ের পরিকল্পনা আছে। প্রশাসনের আশা, এবার পরিবেশ দিবস শুধু কর্মসূচি নয়, প্রকৃত অর্থেই সবুজ সংরক্ষণের এক দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ হয়ে উঠবে।