• বিধাননগর পুরসভায় ডামাডোল চরমে, পদত্যাগ কৃষ্ণার
    বর্তমান | ০৫ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: পালাবদলের পর বহু কাউন্সিলার উধাও! পুরসভায় পা রাখছেন না একাধিক মেয়র পারিষদ। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চার কাউন্সিলার। বোর্ড মিটিং বন্ধ। ফলে পরিষেবার ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। এই ডামাডোলের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিধাননগর পুরসভার মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী পদত্যাগ করলেন। 

    তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ইস্তফা দিয়েছেন। কাউন্সিলার হয়ে কাজ করতে চান বলে জানিয়েছেন। তবে কাজের পরিস্থিতি যে কমে আসছিল তা তাঁর কথায় অনেকটাই স্পষ্ট। পদত্যাগের পর চোখের জল ফেলে পুরসভা ছাড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছের লোক বলে পরিচিত কৃষ্ণা। তিনি বেরনোর পর বিজেপির কয়েকজন কর্মী পুরসভায় গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধ করেন। 

    পালাবদলের পর থেকেই থমথমে চেহারা সর্বত্র। ১৮ মে সল্টলেকে পুরভবনে মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী, কাউন্সিলার এবং আধিকারিকদের সঙ্গে সৌজন্যসাক্ষাৎ করেছিলেন বিধাননগর এবং রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি বিধায়ক ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পীযূষ কানোরিয়া। সল্টলেক সহ বিধাননগরের বেহাল রাস্তার দ্রুত সংস্কারের দাবি তুলেছিলেন তাঁরা। পুরসভার অনেকের বক্তব্য, সৌজন্যতার সঙ্গে বাস্তবের অনেক ফারাক। পালাবদলের পর পুরসভায় বেশিরভাগ দিনই আসছিলেন মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী। কিন্ত তেমন কোনো কাজ করতে পারছিলেন না। কার্যত অফিসে বসেই থাকতে হচ্ছিল তাঁকে।

    এদিন পুর কমিশনারের কাছে গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দেন কৃষ্ণাদেবী। তিন লাইনের চিঠিতে তিনি পদত্যাগের কারণকে ‘ব্যক্তিগত’ বলে দাবি করেন। নতুন মেয়র কে হবেন? নাকি প্রশাসক বসবে? এখন তার দিকে তাকিয়ে ৪১টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণার পদত্যাগের পর মেয়র পারিষদ ভেঙে গিয়েছে। নতুন মেয়র নির্বাচন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলাররা এবার পুর বৈঠক করতে পারেন। দলের তরফে নতুন মেয়রের নাম মনোনীত করা হবে। সর্বসম্মতিক্রমে সেই নতুন মেয়রের প্রস্তাব কমিশনারের কাছে জানাতে হয়। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে যদি তা না হয় তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রশাসক বসানো হবে। তিনিই পুরসভা পরিচালনা করবেন। সূত্রের খবর, পুর প্রশাসক বসানোর দিকেই এগতে পারে। এই মুহূর্তে দলের কাউন্সিলারদের সংগঠিত করার মতো নেতা-নেত্রীর অভাব রয়েছে। কেন পদত্যাগ করলেন? দলের চাপে? নাকি কাজের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা? এই প্রশ্নের উত্তরে পুরসভা ছাড়ার আগে কৃষ্ণা চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, ‘একান্তই ব্যক্তিগত কারণে আমি পদত্যাগ করলাম। মেয়র পদ থেকে সরে গেলাম। তবে কাউন্সিলার হিসাবে মানুষের জন্য কাজ করে যাব।’ গাড়িতে উঠে তিনি বলেন, ‘পুরসভায় বহু কাউন্সিলার আসছেন না। অফিসারদের মধ্যেও একটা ব্যস্ততা দেখছি। একটা বোর্ড মিটিংও হচ্ছে না। পরিষেবাও দিতে পারছিলাম না। নতুন সরকার এসেছে। তাদের প্রতি ভরসা রাখা উচিত। কিন্তু আমরা তো মানুষের কাছে পরিষেবা দেওয়ার জন্য দায়বদ্ধ। তাই মানুষকে বঞ্চিত করতে পারব না। মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারব না। মানুষ পরিষেবা চান। সেটাই থেমে গিয়েছে’। তিনি সজল চোখে বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার মায়ের সমান। কিন্তু আর পারলাম না।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)