• দল দু’-টুকরো হওয়ার পর আজ কালীঘাটের বৈঠকে বাড়তি নজর, ‘প্রেশার ব্লক’এর বিধায়করাও বলছেন, আমাদের নেত্রী মমতাই
    বর্তমান | ০৫ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও নয়াদিল্লি: তৃণমূলের অন্দরে ঘোঁট আরও পাঁকছে! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তৈরি তৃণমূলের সঙ্গে এখন কারা আছেন, তা নিয়ে যখন কৌতুহল তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই আজ, শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে কালীঘাটে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তৃণমূলের’ মধ্যে থাকা কয়েকজন আওয়াজ তুলেছেন, আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই দলটা করতে চাই। এরমধ্যে দিল্লিতে দাঁড়িয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। তিনি বলেন, আইন মেনেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়কদের চিঠিকেই মান্যতা দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার দু’টুকরো হয়েছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে আলাদা টিম বা শিবির গঠন করেছেন বিদ্রোহী বিধায়করা। যে শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিইএখন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। বিরোধী দলনেতা গঠনের পর তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের শিবির থেকে বলা হয়েছিল, মমতার কাছে অনুরোধ, তিনি আমাদের পরামর্শদাতা হোন। কিন্তু বৃহস্পতিবারে ছবিটা আবার ভিন্ন। ঋতব্রত বন্দ্যোপ্যায়ের টিমে থাকা একাধিক সদস্য আওয়াজ তুলেছেন, আমার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। বিধায়ক গুলশান মল্লিক বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বোচ্চ নেত্রী। তাঁকে দেখেই দল করি। তিনি আবার কেন পরামর্শদাতা হবেন? তিনিই তো দলের সর্বেসর্বা। বিধায়ক মোশারফ হোসেন বলেন, আমরা নেত্রীর সঙ্গেই আছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই কালীঘাট থেকে দল পরিচালিত হোক, সেটা আমরা চাই। আমাদের দল ভাঙেনি। দল অটুট রয়েছে। দল নতুনভাবে সংগঠিত হচ্ছে।

    ঋতব্রত শিবিরের মধ্যে কোথাও ভাঙন ধরছে কি না, সেটা সময় বলবে। এই শিবিরের ৫৮ জন বিধায়কই থাকছেন কি না, সেটাও সময়সাপেক্ষ। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে আজ, শুক্রবার বিকেলে কালীঘাটেএকটিগুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের বাছাই করা বেশ কয়েকজন নেতাকে বৈঠকে ডেকেছেন তিনি। সাংসদ, বিধায়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বৈঠকে ডাকা হয়েছে। যেখানে দলের সাংগঠনিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ঘটনাচক্রে বুধবার দলের সব কমিটি ভেঙে দিয়েছেন মমতা। তিনি দলকে নতুনভাবে সাজাতে চলেছেন। সেই প্রেক্ষিতে বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার পথে নেমে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন তৃণমূল। তবে রাজনৈতিক মহলের নজর থাকবে, আজ মমতার ডাকা বৈঠকে ঋতব্রত শিবির থেকে কেউ গেলেন কি না!

    কারণ বুধবার বিধানসভায় নব গঠিত বিরোধী টিমের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেছেন ঋতব্রত। পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। যেখানে প্রস্তাব নেওয়া হয়, ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরাতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে। এব্যাপারে সন্ধ্যায় কলকাতার পদস্থ পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তাঁরা। এদিন ঋতব্রতর ডাকা বৈঠকে হাজির ছিলেন সুরজিৎ মিত্র, সঙ্গীতা বসুনিয়ারা। কিন্তু এই শিবিরের ৫৮ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। অপরদিকে সই জাল কাণ্ডে সিআইডির তদন্তপর্বে এদিন তদন্তকারীরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার বয়ান রেকর্ড করেন। এছাড়াও ফিরহাদ হাকিমেরও বাড়িতে যায় সিআইডি টিম। পাশাপাশি বিধায়ক শুভাশিস দাস, সমর মুখোপাধ্যায়, অরূপ রায় ও বাহারুল ইসলামের হাতের লেখার নুমনা সংগ্রহ করা হয়।

    অন্যদিকে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন করীরের প্রস্তাব,  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি বিধানসভায় আসতে চান, তিনি সরাসরি আমার সঙ্গে কথা বলুন। আমি তাঁকে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতিয়ে বিধানসভায় পাঠানোর ব্যবস্থা করব।
  • Link to this news (বর্তমান)