• কেজি থেকেই কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি রাজ্যে, নয়া সিলেবাসে বাদ মোগল ইতিহাস, ঢুকছে শিবাজি-শ্যামাপ্রসাদ
    বর্তমান | ০৫ জুন ২০২৬
  • রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: অর্ধশতাব্দী পর পশ্চিমঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থায় আসছে আমূল সংস্কার। কেজি (প্রাক-প্রাথমিক) থেকে পিজি (স্নাতকোত্তর) পর্যায়ে জাতীয়তাবাদী ভারতীয় ইতিহাসকে অগ্রাধিকার দিয়ে তৈরি হবে নয়া পাঠক্রম। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে তা কার্যকর হবে সরকারি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু করেছে শিক্ষাদপ্তর। গত সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসে আরএসএসের শাখা সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ। সেখানেই বাম-তৃণমূল শাসন মিলিয়ে গত ৫০ বছরে বাংলায় শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক অবনমন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। অবিলম্বে এ রাজ্যে জাতীয় শিক্ষা নীতি লাগু করে প্রকৃত ভারতীয় ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সিদ্ধান্তও হয়েছে সেই বৈঠকে। সেই সূত্রে এতদিন ধরে বড়ো করে দেখানো মোগল সাম্রাজ্যের ইতিহাস বাদ পড়তে চলেছে নয়া সিলেবাসে। একইসঙ্গে জায়গা পেতে চলেছে কৌটিল্য, সম্রাট অশোক, ছত্রপতি শিবাজীর মতো পরাক্রমী হিন্দু শাসকের বীরগাথা। জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা তথা দেশভাগের সময় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতভুক্তির অন্যতম কারিগর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাও বাড়তি গুরুত্ব পেতে চলেছেন। পাঠ্যপুস্তকে আগামীতে তাঁর অবদান পড়বে ছাত্র-ছাত্রীরা।

    বৈঠক প্রসঙ্গে বুধবার অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি প্রামাণিক জানিয়েছেন, গত পাঁচ দশকে স্কুলপাঠ্যে সঠিক ইতিহাস পড়ানো হয়নি। মোঘল সাম্রাজ্যের পরাক্রমের ইতিহাসকে বড়ো করে দেখানো হয়েছে। অবহেলা করা হয়েছে বঙ্কিম সাহিত্য-যদুনাথ সরকার-রমেশচন্দ্র মজুমদারের কীর্তি। তাঁর অভিযোগ, বাংলার বীরসন্তান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সৌজন্যে পশ্চিমবঙ্গের ভারতভুক্তি হয়েছে। ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবসে’র প্রকৃত ইতিহাস নয়া প্রজন্মের কাছে গুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। লাল পার্টি কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রকে উপেক্ষা করেছে। অহেতুক বাড়াবাড়ি হয়েছে কার্ল মার্কসকে নিয়ে, যার ফল ভুগতে হয়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে। বাপিবাবু আরও বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বঙ্গীয় শিক্ষার ইসলামিকরণে উদ্যোগী হয়েছে। তাই স্কুলের বইতে আকাশ হয়েছে আসমান। জল হয়ে গিয়েছে পানি। বাবার বদলে লেখা হয়েছে আব্বা।’ সূত্রের দাবি, সিলেবাসে আমূল বদল আসবে বলে মহাসংঘের প্রতিনিধিদের আশ্বাস দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়েছেন, জাতীয় শিক্ষা নীতি মেনে পিএম শ্রী স্কুল তৈরি থেকে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সমস্ত প্রক্রিয়া শুরু করবে রাজ্য। শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখা হবে। ইতিমধ্যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কমিটি ভেঙে দিয়েছে নবান্ন। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য-অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বসানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি স্বচ্ছতার সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
  • Link to this news (বর্তমান)