• ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণ: শওকতের বাড়ি সহ নানাস্থানে দিনভর তল্লাশি এনআইএর
    বর্তমান | ০৫ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বারাসত: ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণের তদন্তে প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়িতে হানা দিল এনআইএ। যদিও বৃহস্পতিবার এই দাপুটে তৃণমূল নেতার নাগাল পায়নি কেন্দ্রীয় এজেন্সি। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার গতিবিধি জেনে গিয়ে ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক পালিয়ে গিয়েছেন বলেই খবর। 

    জীবনতলায় তাঁর বাড়ি। এছাড়া তাঁর ফ্ল্যাট সোনারপুরে। মৌখালিতে ছেলের ক্যাফে। সব জায়গাতেই হানা দেন তদন্তকারীরা। শওকতের ছেলে ইমরানকে অবশ্য এদিন আটক করা হয়েছে। জেরা করা হয় তাঁর স্ত্রী-কন্যাকে। কিন্তু পরিবারের কেউই শওকতের হদিশ দিতে পারেননি। খোঁজ পেতে শওকতের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মোবাইলের কল ডিটেইলস খতিয়ে দেখছে এনআইএ। এই ঘটনায় আরো এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এজেন্সি। তদন্তে দেগঙ্গায় যায় এনআইএ। বিস্ফোরণে মৃত কাজি মসিউর রহমানের বাড়িসহ আরো দুটি জায়গায় যান তদন্তকারীরা।

    মার্চে ভাঙড়ের দক্ষিণ বামুনিয়া গ্রামে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। তাতে একজন মারা যান। প্রথমে কলকাতা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে তদন্তভার নেয় এনআইএ। তদন্তে নেমে তারা জানতে পারে, ভোটে গোলমাল পাকাতে হাড়োয়া থেকে বোমা বাঁধার ‘দক্ষ কারিগর’ আমদানি করেছিলেন শওকত।  আহিদুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে এনআইএ। সে জেরায় জানায়, শওকতের নির্দেশমতোই বোমা বাঁধার কাজ চলছিল। ওইসঙ্গে ফোন কলের সূত্র ধরে জানা যায়, বোমা বিস্ফোরণের পর অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তিদের সেখান থেকে দ্রুত সরিয়ে ফেলতে দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন শওকত। তথ্য-প্রমাণ হাপিশ করতে জায়গাটি জল ঢেলে সাফ করারও ফরমান জারি হয়। 

    দুষ্কর্মে তাঁর যোগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা নাগাদ জীবনতলার উত্তর মৌখালিতে শওকতের প্রাসাদোপম বাড়ির সামনে হাজির হন এনআইএ তদন্তকারীরা। বাড়িতে ঢুকে এনআইএ অফিসাররা প্রথমে দুজন পরিচারিকাকে জেরা করেন। এরপর তাঁর ছেলে ইমরানকে ডেকে আনা হয়। ইমরান তদন্তকারীদের জানান, ‘গুণধর’ বাবার বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না। শওকতের সমস্ত ফোন বন্ধ পান এনআইএর অফিসাররা। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে হাজির হন শওকতের স্ত্রী সায়না বানু বেগম এবং মেয়ে শাবানা। তাঁরাও একই কথা বলেন। এরপর ইমরানকে নিয়ে মাতলার ধারে তাঁর ক্যাফেটোরিয়াতে যান তদন্তকারীরা। সেখানে তল্লাশির পর সোনারপুরে শওকতের ফ্ল্যাটেও যান তাঁরা। কিন্তু কোথাও হদিশ মেলেনি তাঁর। অন্য একটি টিম দক্ষিণ বামুনিয়া গ্রামেও তল্লাশি চালায়। তদন্তকারীরা জেনেছেন, বৃহস্পতিবার ভোরে বাড়ি ছেড়ে পালান শওকত। তাঁর গাড়ির নম্বর হাতে এসেছে এজেন্সির। সেই সূত্র ধরে বিভিন্ন টোল প্লাজার সাহায্য চাওয়া হয়েছে। রাজ্যে তো বটেই, পাশাপাশি ভিন রাজ্যেও শওকতের পরিচিত ব্যক্তি এবং আত্মীয়স্বজনের মোবাইলে নজরদারি চলছে। শওকতের স্ত্রী-কন্যাকে তলবি নোটিসও দিয়েছে এনআইএ। বাসন্তীর চুনাখালি হয়ে শওকতের বাংলাদেশে চম্পট দেওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। 
  • Link to this news (বর্তমান)