আবর্জনায় ভরে গিয়েছে ইছামতী, পরিবেশ দিবসে নদী বাঁচানোর ডাক
বর্তমান | ০৫ জুন ২০২৬
সংবাদদাতা, বনগাঁ: ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ বাঁচাতে চারিদিকে যখন সচেতনতা বৃদ্ধির নানা ছবি দেখা যাচ্ছে তখন বনগাঁ শহরে চরম অসচেতনতার ছবি। বাসিন্দাদের সচেতনতার অভাবে ক্রমশ মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ইছামতী নদী। সকলেরই আক্ষেপ, শহরের আবর্জনায় আরও দূষিত হচ্ছে সে। অবিলম্বে বাঁচাতে হবে। এই কাজে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
এখন তীব্র গরমে সন্ধ্যা হতেই বনগাঁয় ব্রিজের উপর ভিড় বাড়ে। ব্রিজের নীচ দিয়ে বয়ে গিয়েছে ইছামতী। সেখানে হাওয়া খেতে আসে সবাই। সেতুর দু’পাশে দাঁড় করানো থাকে একাধিক বাইক। এক দম্পতি বাইক দাঁড় করিয়ে এপাশ ওপাশ একবার দেখে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগে আনা আবর্জনা ছুড়ে ফেললেন নদীতে। এই দৃশ্য সকলের চোখে পড়ল। তবে কেউ কিছুই বললেন না। দম্পতি একা নন, বাসিন্দাদের অধিকাংশ আবর্জনা ফেলেন নদীতে। শহরের জঞ্জালে ভরে উঠছে ইছামতী।
একসময় শহরের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতী ছিল খরস্রোতা। এই নদী ছিল বনগাঁর বাসিন্দাদের বাঁচার অন্যতম অবলম্বন। এখন সেই নদীই বাসিন্দাদের ডাস্টবিন। কচুরিপানায় আবদ্ধ। যেন বদ্ধ একটি জলাশয়। জোয়ার-ভাটা খেলে না। পুজো থেকে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান, পিকনিকের খাওয়াদাওয়া বা যে কোনো অনুষ্ঠানের আবর্জনা ফেলার অন্যতম ডাস্টবিন হয়ে উঠেছে বিভূতিভূষণের প্রিয় নদী ইছামতী। বস্তা বোঝাই করে জঞ্জাল এনে নদীতে ছুড়ে ফেলেন বাসিন্দারা। নদীর পাড়ের বাসিন্দারা এ নিয়ে খুব একটা মুখ খোলেন না। বনগাঁ খয়রামারির নদীর পাড়ে বসবাস করা সুশান্ত নাথ বলেন, ‘ছোটবেলায় এই নদীতে সাঁতার কেটেছি। আজ জল নেই। কচুরিপানা ভর্তি। সর্বদা দুর্গন্ধ ছড়ায়।’ সঞ্জয় দাস নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘একসময় নদীতে মাছ ধরেছি। আজ দূষণের কারণে মাছ আসে না।’ বহু মানুষের বক্তব্য, ‘পরিবেশ দিবস শুধুমাত্র ঘটা করে উদযাপন করলেই হবে না। সকলকে নদী বাঁচাতে সচেতন হতে হবে।’