• আলিপুর বডিগার্ড লাইনের পুজোর বাজেট ৪০ কোটি! টাকার উৎস সন্ধানে লালবাজার
    বর্তমান | ০৫ জুন ২০২৬
  • শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: কলকাতা পুলিশের আবাসনের পূজোয় খরচ ৪০ কোটি! বাজেট বহরে শহরের নামী-দামি যে কোনো পূজোকে অনায়াসে টেক্কা দেবে। টাকার এই অঙ্ক দেখে চক্ষু চড়কগাছ লালবাজারের কর্তাদের। পালাবদল ঘটতেই ২০২৫ সালের দূর্গাপূজোর টাকার উৎস জানতে শুরু হয়েছে ‘ছানবিন’। প্রশাসনের শীর্ষস্তরের নির্দেশে লালবাজারের কর্তারা উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গড়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলে খবর। 

    আলিপুর বডিগার্ড লাইনে আবাসিকদের দূর্গাপূজো তৃণমূল সরকারের  আমলে ওয়েলফেয়ার কমিটির তদানীন্তন কো-অর্ডিনেটর শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও তার বাহিনীর হাতে  চলে যায়। পুজোর চাঁদার জন্য ওসিদের কোটা বেঁধে দেওয়া হয়। প্রথমদিকে এই পূজোর বাজেট ছিল ৮০ থেকে ৯০ লক্ষ টাকা। ধীরে ধীরে এর পরিমাণ বাড়তে থাকে। ২০২৫ সালে থিম  পূজো চালু হয়। প্রাক্তন  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে এই পূজোর উদ্বোধন করানো হয়। ওই বছর পুজোর জন্য কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের কোন থানার ওসি বা আইসিকে কত টাকা দিতে হবে, তার তালিকা নির্দিষ্ট করে দেন শান্তনুবাবু। আধিকারিকরা জানতে পারছেন, ছোট থানার জন্য ওসিদের তিন লক্ষ টাকা, মাঝারি থানার জন্য ৪ লক্ষ টাকা ও বড় থানার জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা ধার্য হয়েছিল। আবার বেশ কিছু ছোট থানার জন্য কোথাও ৬৫ হাজার আবার কোথাও দেড় লক্ষ টাকা চাঁদা নির্ধারিত হয়েছিল। এরই সঙ্গে থানাপিছু  ৮০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকার মুদি দোকানের সামগ্রী নেওয়া হয়েছিল। লালবাজার সূত্রে জানা যাচ্ছে,  কলকাতা পুলিশের থানা সহ সমস্ত ইউনিটের ওসি থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত আলাদা করে চাঁদা কাটা হয়েছিল। যার পরিমাণ ছিল ৫০০ থেকে দু’হাজার টাকা। এর সঙ্গে প্রতিটি থানাকে তাদের এলাকায় বিজ্ঞাপণ তুলে দেওয়ার জন্য কনট্রাক্ট ফর্মও পাঠানো হয়। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আসে। জেলা পুলিশের যে সমস্ত থানা এলাকা ভায়া হয়ে বালি, পাথর, কয়লা, গোরু পাচারের বেআইনি কারবার হত, সেখানকার ওসিদের  থেকে পাঁচ থেকে আট লক্ষ টাকা চাঁদা বাবদ নেওয়া হয় বলে জানা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, সবমিলিয়ে কমবেশি ৪০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। খরচের হিসেবেও বিপুল অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ। লালবাজারের আধিকারিকদের প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট  থানার ওসিরা ওই টাকা পেলেন কোথা থেকে? প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পারছেন, থানা এলাকায় চলা অবৈধ কারবারের টাকা চাঁদা বাবদ দিয়েছেন ওসিরা। সেই কারণে ওসিদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি যারা পুজোয় বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহ করেছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে নবান্নে জমা দেবেন। পরবর্তী ধাপের জন্য সবুজ সংকেত মিললে, নেওয়া হবে আইনি পদক্ষেপ।
  • Link to this news (বর্তমান)