৩ পূর্বসূরি ব্যর্থ, নয়া মন্ত্রীর হাত ধরে স্বপ্ন সফল হবে রেল উড়ালপুলের? আশাবাদী খড়দহবাসী
বর্তমান | ০৫ জুন ২০২৬
বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: ‘খড়দহ হল মন্ত্রী তৈরির কারখানা! প্রত্যেকবার এখানকার বিধায়ক মন্ত্রী হলেও খড়দহবাসীর জীবনযাত্রা, পরিকাঠামো ও সার্বিক উন্নয়ন রয়ে গিয়েছে সেই তিমিরে। আমি জিতলে খড়দহের প্রকৃত উন্নয়ন করব। এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন করতে গেলে মাটির টান ও উদ্যম লাগে। মন্ত্রী হতে হয় না।’ ভোট প্রচারে বেরিয়ে এভাবেই সহজ কথায় মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন খড়দহের বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চক্রবর্তী। মানুষের আশীর্বাদ ও ভালোবাসা পেয়ে তিনি বিধায়ক হয়েছেন। দল তাঁকে পূর্ণমন্ত্রী করেছে। এই অবস্থায় খড়দহবাসীর আশা, তাঁদের দীর্ঘ ছয় দশকের কাঙ্খিত উড়ালপুলের স্বপ্ন এবার পূরণ হবে। শহরবাসীর আশা, কল্যাণবাবুর হাত ধরেই হবে খড়দহের ‘প্রকৃত উন্নয়ন’।
বিগত ৩৯ বছর ধরে খড়দহের বিধায়করা রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৮৭ সালে খড়দহ থেকে জয়লাভ করে বামফ্রন্ট মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী হয়েছিলেন অসীম দাসগুপ্ত। ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি অর্থমন্ত্রী থাকলেও খড়দহে যানজট সমস্যা সমাধানে রেলওয়ে উড়ালপুল তৈরি করতে পারেননি। ২০১১ সাল থেকে ২০২১ পর্যন্ত খড়দহের বিধায়ক অমিত মিত্র ছিলেন তৃণমূল মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী। তিনিও এই সমস্যার সমাধান করতে পারেননি। ২০২১ সালে কাজল সিনহা ভোটের পরপরই করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান। কয়েক মাসের মধ্যে উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনিও মন্ত্রী হন। কিন্তু উড়ালপুলের স্বপ্ন আজও অধরা রয়ে গিয়েছে! উলটে দিনে দিনে খড়দহ রেলগেটকে কেন্দ্র করে যানজট সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। অফিসটাইমে চাপ এতটাই থাকে যে কোন কোনো দিন গেট ফেলার সুযোগ পেতেই কালঘাম ছুটে যায় রেলকর্মীদর। গেট না পড়লে লোকাল হোক বা এক্সপ্রেস ট্রেন, বাড়তি সময় সময় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয় স্টেশনে। বহু দুর্ঘটনাও ঘটেছে এই রেলগেটে। এই অবস্থায় আদৌ এই রেলওয়ে উড়ালপুলের বাস্তবায়ন হবে কি না, সেটাই খড়দহবাসীর কাছে এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। আজও খড়দহে লোকসভা কিংবা বিধানসভা ভোটে অন্যতম ইস্যু হয়ে ওঠে এই উড়ালপুল। মানুষের মন পেতে সিপিএম এই বিধানসভা ভোটের আগে যাদবপুরের স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার এনে উড়ালপুলের ম্যাপ ও ডিপিআর তৈরি করিয়েছিল। তারা এলাকায় প্রচার করেছিল, সিপিএম প্রার্থী জিতলে এক বছরের মধ্যে উড়ালপুল তৈরি হবে। কোনো দোকান ভাঙা পড়বে না। বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চক্রবর্তীও উড়ালপুল তৈরিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
রহড়ায় একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন স্বরূপ দত্ত, বর্ণময় বিশ্বাসরা। তাঁদের কথায়, ‘অনেক হেভিওয়েট মন্ত্রীকে ব্যার্থ হতে দেখলাম। কিন্তু একদিন উড়ালপুল নিশ্চয়ই হবে, এই আশায় বসে রয়েছি। কল্যাণবাবুর হাত ধরে এই কাজ হলে খড়দহবাসী তাঁকে মাথায় তুলে রাখবে।’ কল্যাণবাবু বলেন, ‘বিধায়ক হিসাবে শপথ নেওয়ার সাত দিনের মধ্যে উড়ালপুলের ডিপিআর পূর্তদপ্তরের সর্বোচ্চ স্তরে জমা দিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে খড়দহ উড়ালপুলের দাবি পৌঁছে দিয়েছি। বারাকপুর মহকুমা প্রশাসনের সঙ্গে এনিয়ে বৈঠক করেছি। এছাড়া খড়দহের জল নিকাশি, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে একাধিক বৈঠক ও প্রস্তাব জমা দিয়েছি। এখনও বলছি, এলাকাবাসীর প্রতি ভালোবাসা, জায়গার প্রতি নাড়ির টান থাকলে মন্ত্রী না হয়েও উন্নয়ন করা সম্ভব। সেটাই প্রমাণ করে দেব।’ নিজস্ব চিত্র