‘সিনেমাতেই মনোযোগ দিতে চাই’, ‘ফুলপিসি’তে বিনির চরিত্রে প্রশংসিত হতেই ভবিষ্যৎ ভাবনা শ্যামৌপ্তির
প্রতিদিন | ০৫ জুন ২০২৬
‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড মুক্তির পর থেকে দারুণ প্রশংসা পাচ্ছেন শ্যামৌপ্তি মুদলি অর্থাৎ ছবির বিনি। তিনি নিজেও আশা করেননি প্রথম ছবি তাঁকে এতটা আলোয় এনে দেবে। তাঁর কথায়, “এই হাউসের ছবি মানেই সকলের প্রত্যাশা থাকে। ‘উইন্ডোজ’-এর সঙ্গে আমার প্রথম ছবি। দর্শক এতদিন ধারাবাহিকে আমাকে অন্যরকমভাবে দেখেছে। সবাই একটা কথা বলছে, আমার চোখ দুটো ভীষণ এক্সপ্রেসিভ। চরিত্রটা করার সময় এটাই আমার সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। দাদা এবং দিদি আমাকে বলেছিল, ‘চোখ দিয়ে বোঝাতে হবে তুমি কী ফিল করছ।’ একজন অভিনেত্রী হিসাবে মনে হয়, সংলাপ বলে দেওয়া তো সহজ। সংলাপের জায়গায় চোখের এক্সপ্রেশন দেওয়া, কিছু না বলে অনেককিছু বোঝানো বেশি শক্ত।”
ভেবেছিলেন কখনও সোহিনী সেনগুপ্ত, রাইমা সেন, অনন্যা চট্টোপাধ্যায়ের মতো অভিনেত্রীদের পাশে নজরে পড়বেন? অকপটে বলেন, “আমি সত্যিই ভাবিনি। কারও মধ্যে থেকে নজর কাড়তে পারব কি পারব না, এগুলো মাথায় থাকলে কমপিটিটিভ মাইন্ড তৈরি হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে মনে হয়, নিজের প্লাস পয়েন্টগুলোকেও মাইনাস করে ফেলব। এটা ভেবে কাজ করতে গিয়েছিলাম যে, আমার প্রথম ছবি। এত গুণী দু’জন মানুষের হাত ধরে সেই ছবি, এটা বড় দায়িত্ব। এবং এমন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। এত গুণী-গুণী শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করছি, যারা প্রত্যেকেই ইনস্টিটিউশন বলা যায়। আমি যেন নিজের চরিত্রের প্রতি সুবিচার করতে পারি। তাই সবটা দিয়ে কাজটা করতে চেয়েছিলাম।”
টেলিভিশনে ধারাবাহিকের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। সেখান থেকে সিনেমায় এসেছেন। সিরিজও করেছেন সম্প্রতি। সিনেমাতেই কি মনোযোগ দেবেন? অভিনেত্রী হাসতে হাসতে বললেন, “আপাতত সিনেমাতেই মনোযোগ। আগামীতে কী হবে জানি না। তবে আমি স্লো বাট স্টেডি এগোতে চাই। একটু বেছে কাজ করতে চাই। নিজেকে এক্সপ্লোর করব। বাকিটা কেমন সুযোগ পাব, কতটা কী ওয়ার্ক করবে জানি না। শুধু এটুকু জানি, আমি একজন পারফর্মার, প্রতিটা দিন নিজেকে আপডেট করতে হবে, প্রম করতে হবে, যাতে যেকোনও সিচুয়েশনের জন্য আমি তৈরি থাকি।” ‘মনের চাবি রে’ গানটা রীতিমতো ভাইরাল। নাচের দৃশ্যও নজর কেড়েছে। বিশেষ কোনও প্রশংসা? শ্যামৌপ্তির স্পষ্ট জবাব, “ইন্ডাস্ট্রিতে আমার অত বন্ধুবান্ধব নেই। তবে চেনাজানা অনেকেই প্রশংসা করেছেন”।
রণজয় বিষ্ণু অর্থাৎ শ্যামৌপ্তির স্বামীর কী প্রতিক্রিয়া? জন প্রেমিক এবং আরেকজন পুরুষকেও সামলাতে হয়েছে …উত্তরে বলেন, “ঠিকই বলেছেন। ও পুরো ছবিটা দেখেছে। রণ বলেছে, ও এতটাও আশা করেনি। সিরিয়ালের একটা প্যাটার্ন হয়, ওটিটি-র একটা পরটার্ন হয়, সিনেমার একটা ধরন হয়। সেখান থেকে প্রথম ছবিতে এতটা সাবলীল অভিনয় করতে পারবে ও ভাবেনি। বলেছে ‘ফিলিং প্রাউড অফ ইউ। খুব ভালো করে কাজ কর।” এই সিনেমায় পারফরম্যান্সের পর আগামী দিনে আরও কাজের আশা রাখছেন? তাঁর মতে, “ওইভাবে তো বলা যায় না। আমি কোনও কিছু আশা করি না। প্রত্যাশা করব, আর পূরণ না হলে, নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলতে হয়।”
নিজে কাজ চাইতে পারবেন কোনও প্রোডাকশন হাউসের কাছে? সপাট জবাব, “না, আমি কাজ চাইতে পারি না। লজ্জা পাই। শুধুমাত্র নিজের প্যাশন দিয়ে, ডেডিকেশন দিয়ে কাজ করে যাব, যেটুকু সুযোগ পাব। যদি ভাগ্যে থাকে এবং হার্ড ওয়ার্ক করতে পারি, ঠিক সময়ে ঠিক জিনিসটা আসবে। ‘উইন্ডোজ’ আমাকে নোটিস করেছে, তারপর আমাকে ডেকেছে, কথা বলেছে। আমার অডিশন দিতে আপত্তি নেই। প্রথম সিরিজ অডিশন দিয়ে পেয়েছি”। আর কোনও ছবির প্রস্তাব পাচ্ছেন? শ্যামৌপ্তি জানান, “কিছু কথাবার্তা হয়েছে। তবে পাকা খবর হওয়ার আগে বলতে পারছি না (হাসি)। একটু দায়িত্ব বেড়ে গেল এখন, এতটা তো আমিও আশা করিনি। এখন চিত্রনাট্য শুনছি। দুম করে কিছু করতে চাই না।”