বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে টেকনিশিয়ান স্টুডিও। ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে ‘চোর চোর’ স্লোগান তুলে ছোড়া হয় ডিম। এমনকী শুরু হয় ইটবৃষ্টিও। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের নিশানায় ফেডারেশনের ম্যানেজার গিল্ডের সম্পাদক মহম্মদ হাসান এবং সহসম্পাদক বাবাই। দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির নানা অভিযোগ এই দু’জনের বিরুদ্ধে । রাজ্যে সরকার বদলের পর স্বরূপ বিশ্বাসের ফেডারেশন যখন প্রায় অবলুপ্তির পথে, তখন হঠাৎ কেন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের মিটিং ঘিরে ডামাডোল শুরু হল? এমন অপ্রীতিকর ঘটনার নেপথ্য কারণ কী?
সংবাদমাধ্যমের তরফে অভিনেতা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষকে (Rudranil Ghosh) প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “টেকনিশিয়ানদের একটা বড় অংশ তথ্য সংস্কৃতি ভবনে তাঁদের কিছু আবেদন সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে জমা দিতে আসেন। তখন কিছু বহিরাগত যাদের টলিগঞ্জের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই তারা এধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। তবে তাদের কেউ চিহ্নত করতে পারেনি।” বর্তমান সরকারকে নিয়ে ইন্ডাস্ট্রি আশাবাদী কিনা সেই বিষয়ে রুদ্রনীলের বক্তব্য, “প্রত্যেকেই আশাবাদী। আর সেই জন্যই তাঁরা জানতে চান কীভাবে কোন নিয়মানুবর্তিতা মেনে ইন্ডাস্ট্রি কাজ করবে। বর্তমান সরকার কীভাবে টলিউডের হারিয়ে যাওয়া গরিমা ফিরিয়ে আনবে, ভবিষ্যতে ইন্ডাস্ট্রির বিকাশ ঘটবে সেগুলো তাঁরা জানতে চান।”
তৃণণূল সরকারের আলমে ইন্ডাস্ট্রির বেহাল দশা নিয়ে বলেন, “পূর্বতন সরকার যেটা ম্লান করে দিয়েছিল সেটা ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য। ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত প্রতিটি মানুষ সেই আশাতেই আজ তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে চিঠি জমা দিতে এসেছিলেন। আমি শুধু বার্তাবাহক মাত্র। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী চান অন্য বিভাগগুলোর মতোই সংস্কৃতি জগতের কাজও সুন্দরভাবে চলুক। মতান্তর যেন কোনও সৃজনশীল কাজে ক্ষতি না করে সেটাই মূল লক্ষ্য। শিল্পী পরিচালক, প্রযোজক থেকে টেকনিশিয়ান, ক্যামেরাম্যান প্রত্যেকে যেন পরস্পরের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে সেটাই কাম্য়।”
ব্যান কালচর প্রসঙ্গে বর্তমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে রুদ্রনীল জানান, “এটা আমরা কখনই সমর্থন করি না। ব্যক্তিগত মতামতের গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্তা জানাবেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার তথা আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী। অত্যন্ত দায়িত্বশীল আধিকারীকটা আছেন, তাঁরা আলোচনা করবেন। সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রীও বিষয়টির উপর আলোকপাত করে এমন কিছু সিদ্ধান্ত জানাবেন যা ইন্ডাস্ট্রির পক্ষে মঙ্গল।”
শুটিংয়ে কাজের সময়সীমা নিয়ে অভিনেতা বিধায়ক বলেন, “যে সাধারণ নিয়মগুলো মেনে চললে শুটিংয়ে কোনও সমস্যা হবে না সেটা দেখা হবে। যত ঘণ্টা শুটিং চলার কথা সেটাকে কেউ কেউ ইচ্ছাকৃত বেশি সময় ধরে করছেন বলে জানা গিয়েছে। সবশেষে একটাই কথা বলব সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নেবে তথ্য সংস্কৃতিভবন ও মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী।”