• ‘বন্ধ হওয়া সিঙ্গল স্ক্রিনগুলি খুলুক’, বাংলা সিনেমার স্বার্থে বিজেপি সরকারকে আর্জি যিশুর
    প্রতিদিন | ০৫ জুন ২০২৬
  • রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ রব। ছাব্বিশের ভোটে ‘বিশ্বাস দূর্গে’র পতন ঘটতেই টলিউডের দুর্নীতি ধুয়ে মুছে সাফ করতে ‘অ্যাকশনে’ নেমে পড়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারীরা। এমন আবহে টালিগঞ্জ সেলেবপাড়ার সদস্যরা বাংলা সিনেশিল্পের স্বার্থে নতুন সরকারের কাছে নিজেদের প্রত্যাশামাফিক আর্জি রেখেছেন। এবার বিজেপি সরকারের কাছে যিশু সেনগুপ্তের আবেদন, “রাজ্যের বন্ধ হওয়া সিঙ্গলস্ক্রিন হলগুলির দরজা পুনরায় খুলুক।”

    আসলে আধুনিকতার পালে হাওয়া লেগে সিনেবাজারে মাল্টিপ্লেক্সের দৌরাত্ম্য এখন সর্বত্র। ফলত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সিঙ্গল স্ক্রিনগুলো ধুঁকছে। কোথাও বা আবার দর্শকের অভাবে সিঙ্গলস্ক্রিন সিনেমা হল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অতিমারী উত্তর পর্বে সেই দুর্দশার চিত্র আরও ভয়ংকর, বললেও অত্যুক্তি হয় না! পশ্চিমবঙ্গে যেখানে একসময়ে রমরমিয়ে চলত প্রায় সাতশো-আটশো সিঙ্গল স্ক্রিনের দাপট, সেখানে সেই সংখ্যা এখন প্রায় দু’শোরও নিচে এসে ঠেকেছে! যার জেরে ধাক্কা খাচ্ছে বাংলা সিনেমার ব্যবসাও। অতঃপর বাংলার সিনেশিল্পের পরিধি বাড়াতে অর্থনৈতিক কাঠামোও চাঙ্গা করা দরকার। এবার সেপ্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করেই বিজেপি সরকারের কাছে সিঙ্গলস্ক্রিন হলগুলি নতুন করে খোলার দাবি তুলেছেন যিশু সেনগুপ্ত।

    সম্প্রতি অভিনব দেও পরিচালিত তথা করিশ্মা কাপুর অভিনীত বলিউড সিরিজ ‘ব্রাউন’-এর প্রচারানুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যিশু। সেখানেই সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিনেতার মন্তব্য, “সদ্য নির্বাচিত সরকারের কাছে আমার একটাই প্রত্যাশা। সেটা হল, আমি সত্যিই চাই বন্ধ হয়ে যাওয়া সিঙ্গলস্ক্রিন হলগুলো যেন পুনরায় খোলার ব্যবস্থা করা হয়।” অতীতের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে যিশুর সংযোজন, “আমার কেরিয়ারের গোড়ার দিকে প্রায় ৭০০-৮০০টি সিঙ্গলস্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহ ছিল। কিন্তু আজ সেখানে মেরেকেটে একশোটির মতো স্ক্রিন টিকে রয়েছে। আগে যেখানে ২,৮০০টি শো থাকত, সেটা এখন কমে গিয়ে দু’শো-তিনশো’তে এসে ঠেকেছে। বর্তমানে সিনেশিল্পের পরিস্থিতি ঠিক এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে! আর ঠিক একারণেই মার খাচ্ছে বাংলা সিনেমা।” পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির ‘নিষিদ্ধ সংস্কৃতি’ নিয়েও মুখ খুলেছেন যিশু।

    বিগত এক দশকে একাধিকবার রাজনীতির নাগপাশ থেকে টলিউডকে মুক্ত করার দাবি উঠেছে বাংলা সিনেপাড়ায়! ফেডারেশনের আস্ফালনে বাংলা সিনেপাড়ার ‘ব্যান কালচার’ নিয়েও কম হইচই হয়নি। সিনেইন্ডাস্ট্রির একাধিক ব্যক্তিত্ব এযাবৎকাল অভিযোগ তুলেছেন যে, টলিউডে একচ্ছত্র প্রতিপত্তি বহাল রেখেছিল ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’। সরকার বদলের পর সকলেই একযোগে ব্যান সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এপ্রসঙ্গে যিশু সেনগুপ্তের মত, “এগুলোর দায় আমাদেরই। কারণ আমরা সেসময়ে তাদের দাবির কাছে নতি স্বীকার করেছিলাম।” তবে ভবিষ্যতে যাতে সিনেশিল্পের মঙ্গল হয়, সেটাই এখন একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করছেন অভিনেতা।
  • Link to this news (প্রতিদিন)