• স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন সুব্রত দত্ত, আজকাল ডট ইন-কে কী বললেন অভিনেতা
    আজকাল | ০৫ জুন ২০২৬
  • বৃহস্পতিবার রাতে স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। তোলাবাজি এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে অরূপ বিশ্বাসের ভাইয়ের বিরুদ্ধে। বহুদিন ধরেই বিশ্বাস ব্রাদার্সের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন টলিপাড়ার তারকারা। এদিন স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হতেই তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন সুব্রত দত্ত।

    ফেসবুক পোস্টে সুব্রত দত্ত লেখেন, “টলিউডের তোলাবাজ অবশেষে গ্রেফতার..এই তো শুরু..” আজকাল ডট ইন-এর তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অভাগী বলে একটি ছবি করছিলাম। ড. প্রবীর ভৌমিক প্রোডিউসার ছিলেন। হঠাৎ করে শুটিং বন্ধ হয়ে গেল। তারপর ওটিটি-র জন্য সমস্ত কিছু ফাইনাল হয়ে গেল। ৪-৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন ওনারা। মউ স্বাক্ষর হয়ে গিয়েছিল। আচমকা তিন দিন আগে বলা হল, শুটিং করা যাবে না।"

    তাঁর আরও সংযোজন, “আমি মুম্বইতে থাকি। এখানে মেকআপ ম্যান ভাই, হেয়ার ড্রেসার যারা আছেন সবার সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম উনি তো পুরো সম্রাটের মতো নির্দেশ দিচ্ছেন। অর্পণা সেন ‘অদম্য’-র প্রিমিয়ার শো-তে বলেছিলেন, যিনি কোনও দিন ছবি বানাননি, তিনি কীভাবে এই পোস্টে থাকতে পারেন। তখন থেকে আমার মাথাটা ঘুরল। গৌতম ঘোষের একটা পোস্টে দেখলাম, উনি নাকি আমাদের বুম্বাদা-র প্রজেক্টেরও বাজেট চেয়েছেন। যিনি কখনও ছবি করেননি, তিনি কীভাবে এটা করতে পারেন। আমার খারাপ লেগেছে একজন পরিচালককে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে যার কাছে, তিনি একসময় অটো ইউনিয়নের মালিক ছিলেন। ওনার কথা মতো সবাই লোক নিতে হবে।”

    ভারতের অন্য কোনও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এই অব্যবস্থা দেখা যায় না বলেও আক্ষেপ করেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, “আমার ১০০-র বেশি প্রোজেক্ট হয়ে গিয়েছে। এখানে কিছুদিন ধরে কাজ করছি। আমি বাইরে থেকে দেখছিলাম এরকম কোথাও হয় না। একটা কোনও ইনজেকশন ডাক্তার দেবে, সেটা তো ওষুধের দোকানের কেউ ঠিক করতে পারে না। খুবই দুঃখজনক, হতাজনক বিষয়।”

    টলিপাড়ায় ব্যান হওয়া নিয়েও সরব হয়েছেন সুব্রত দত্ত। বলেন, “অনির্বাণের মতো অভিনেতাকে ব্যান করে দিচ্ছে। এবং এই ধরনের মানুষের কাছে নাকি ক্ষমা চাইতে হবে। ব্যান কালচার হওয়া উচিত নয়। যদি কেউ ৫ লক্ষ টাকার ছবি বানাতে চায়, তা হওয়া দরকার। আবার ৫০০ কোটি ছবিও হতে পারে। পুষ্পার ক্লাইম্যাক্স বাঁকুড়ার জঙ্গলে হওয়ার কথা ছিল,সেটা শুধু এই কারণে হল না।”

    পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর মত, “একটা রাজনৈতিক দল যখন পাঁচ বছরের বেশিদিন থাকে, তখন কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত হয় সেটাই বোঝা যাচ্ছে। দেওয়া-নেওয়ার ওপরে পুরো পার্টটা চলছে। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল এক মাসও হল না। নন্দনের টিম ছবি পাশ করার পর ওখান থেকে আটকে দিত। নন্দনে কর্মাশিয়াল ছবি চালানো হত। কারণ ওরা নাকি পার্টির সাপোর্টার। আমি পুরো বিষয়টায় খুবই বিতশ্রদ্ধ।”

    রাজ্যে পালাবদলের পর এবার কি হাল ফিরবে টলিপাড়ার? অভিনেতা আশা রাখেন, “সময় বলবে। এখনই কিছু বলার জন্য খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে। এখন ওনারা যা বলছেন যা করতেও সময় লাগবে। অন্নপূর্ণা ভান্ডার থেকে চিংড়িঘাটা মেট্রো, সবকিছুরই ধীরে ধীরে কাজ তো শুরু হচ্ছে।”
  • Link to this news (আজকাল)