গ্রেফতার স্বরূপ বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার রাতে টেলিভিশনের এই ব্রেকিং নিউজ় দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি কেশসজ্জা শিল্পী তনুশ্রী দাস। ফিরে গিয়েছিলেন ২০২৪ সালের সেই সময়টায়, যখন সংসারের অর্থের অভাবে তিনি ঠিক করেছিলেন নিজেকে শেষ করে ফেলবেন। দিনের পর দিন কাজ ছিল না হাতে। আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন। স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারিকে তাই ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান’ বলে উল্লেখ করলেন তনুশ্রী।
ফোনের ওপারে তখন গলা ধরে এসেছে তনুশ্রীর। কান্না চাপা গলায় বললেন, ‘অনেক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে কাটিয়েছি। আমি তো গোবিন্দের সেবা দিই। তিনিই দেখিয়ে দিয়েছেন স্বরূপ বিশ্বাসের আসল রূপ। এত দিন তো চাপা ছিল। আমি একা নই, আরও অনেক শিল্পীর সঙ্গেই অন্যায় হয়েছে। তাঁর সঙ্গে জড়িত আছেন আমাদের ২৬টা গিল্ডের আরও বেশ কিছু বড় বড় মাথা। সেইজন্যই তো এসব করতে পেরেছেন।’
কাজে ফিরলেও এত দিন একটা ভয়ের মধ্যে ছিলেন তনুশ্রী। যদি কাজ চলে যায়। তনুশ্রীর কথায়, ‘দুটো বছর আমার যে ভাবে নষ্ট করে দিয়েছে, সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতে আমার অনেক সময় লাগবে। ৩০ বছর ইন্ডাস্ট্রিতে রয়েছি। সেই জায়গাটা আমার শেষ করে দিয়েছে এই লোকগুলো।’
তনুশ্রীর এই ঘটনায় তৎকালীন ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস তাঁকে কাজের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি, টালিগঞ্জে শিল্পী-কলাকুশলীদের জন্য তৈরি ‘সুরক্ষা বন্ধু’ কমিটি গোটা বিষয়টি দেখছে বলে জানিয়েছিলেন। তবে সেই সময়েও ফেডারেশনের তরফে কোনও সাহায্য পাননি বলে জানিয়েছেন তনুশ্রী। উল্টে তাঁকে চাপ দিয়ে কেস তুলিয়ে নিয়েছিল বলে অভিযোগ কেশসজ্জা শিল্পীর।
তনুশ্রীর কথায়, ‘স্বরূপ বিশ্বাস আমায় বলেছিলেন, কেস না তুললে কাজের সমস্যা হবে। সেই সময়ে সব কিছু মুখ বুজে সহ্য করেছি। হেয়ার ড্রেসার গিল্ডের প্রাক্তন সম্পাদক হেমা মুন্সি ভীষণ ভাবে সাহায্য করেছিলেন। তাই বেঁচে আছি। তখন সবে কাউন্সেলিং শেষ হয়েছে। ডিপ্রেশনে ভুগছিলাম। হেমাদি না থাকলে আবারও শেষ হয়ে যেতাম। আমাদের গিল্ডের ভোটে দাঁড়াতে দেওয়া হতো না। চুরি করে যাতে জিততে পারে। তাই স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হতে অনেকদিন পরে শান্তিতে একটু ঘুমিয়েছি। নতুন সরকারের প্রতি ভীষণই আশাবাদী। যে পথ তৈরি করে দেবে, সেই দিকেই চলব।’