গোটা শহর যেন কংক্রিটের জঙ্গল। শুধু বড় বড় আবাসন। সবুজের ছিঁটেফোঁটা নেই। এই ভাবে চললে তার খেসারত দিতে হবে বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার, (৫ জুন) ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ উপলক্ষে নলবনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে তিনি সরাসরি বলে দিলেন, ‘এক-তৃতীয়াংশ জায়গায় বৃক্ষরোপণ বাধ্যতামূলক। যাঁরা বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করেন, তাঁরা সব জানেন। কিন্তু কেউ করেন না।’
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচি নিয়েছি রাজ্য সরকার। ৬ লক্ষ ফলের গাছ রোপণ করা হবে। একই সঙ্গে আসন্ন বর্ষায় ১ কোটি ১০ লক্ষ গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্র নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘সচেতনতা গড়ে তুলতেই হবে। স্কুলের সিলেবাসে পরিবেশ এবং বৃক্ষরোপণ নিয়ে অধ্যায় রয়েছে। আমরা এই বিষয়টাকে আরও সবিস্তারে নিয়ে আসব।’
জঙ্গলের জমি হাতবদল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জঙ্গলমহলে অবাধে গাছকাটা হচ্ছে। তরাই-ডুয়ার্সের অসাধারণ সৌন্দর্য ছিল। সেখানেও গাছ কাটা চলছে।’ শুভেন্দুর কথায়, ‘আমরা পরিবেশের সঙ্গে অন্যায় করছি। এর খেসারত দিতে হবে।’
পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণের সঙ্গে স্বচ্ছতাকেও জুড়ে দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘আস্থার জায়গাগুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।’ কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের বাইরের পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ব্যাপারে জোর দেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘এগুলো সরকার দেখবে।’ কপিল মুনির আশ্রমও নতুন করে সাজানো হবে বলে জানান তিনি।
এর পরেই আবাসনে বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত আইনের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করেন, তাঁরা জানেন, এক-তৃতীয়াংশ জমিতে বৃক্ষরোপণ বাধ্যতামূলক। আইনে এটাই আছে। কিন্তু কোথাও এই আইন মানা হয়েছে বলে আমি দেখিনি।’ শুধু গাছ লাগানো নয়, সেগুলি রক্ষণাবেক্ষণেও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। কিছুটা কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, ‘না হলে শুধু খিঁচ মেরি ফটো হবে, কাজের কাজ হবে না।’
এ দিনের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া, লকেট চট্টোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা সুব্রত গুপ্ত এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৃক্ষরোপণের পরে নলবনের ভেড়িতে মাছের চারা ছাড়েন মুখ্যমন্ত্রী।