• কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি দখল করে বাগানবাড়ি! গ্রেপ্তার ছাতনার তৃণমূল নেতা
    এই সময় | ০৫ জুন ২০২৬
  • বাঁকুড়ার দাপুটে তৃণমূল নেতা শঙ্কর চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো ক্যাম্পাস দখল করে বাগানবাড়ি তৈরির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরকারি সামগ্রী পাচার করছিলেন বলে অভিযোগ। সেই সময়েই তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করে ছাতনা থানার পুলিশ। গোটা ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শঙ্কর নিজে।

    ২০১৮ সালে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাতনা ক্যাম্পাসটি শুশুনিয়ায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, তারপর থেকে একটু একটু করে পুরো ২৯ একর জমিই দখল করে নেন শঙ্কর। ক্লাসরুমগুলো বিলাসবহুল হোটেলের কায়দায় সাজিয়ে তোলেন। জমিতে শুরু করেন হাঁস-মুরগির পোলট্রি। আর ফাঁকা জমিতে চাষবাস। এভাবেই চলছিল।

    গতকাল ক্যম্পাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামগ্রী লরিতে অন্যত্র পাঠাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে শঙ্করের বিরুদ্ধে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান ছাতনার বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। শঙ্করকে হাতেনাতে পাকড়াও করেন তিনি। এর পরেই শঙ্করের বিরুদ্ধে ছাতনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন।

    ঘটনার তদন্তে নেমে রাতেই শঙ্করকে গ্রেপ্তার করে ছাতনা পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি জমিতে বিনা অনুমতিতে অনুপ্রবেশ, বিশ্বাসভঙ্গ, চুরি, প্রতারণা, হুমকি দিয়ে অন্যের জায়গা দখল করে রাখা ও ইচ্ছাকৃত ভাবে অন্যের সম্পত্তির ক্ষতি-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শুক্রবার ধৃত তৃনমূল নেতাকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে ২ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

    এ দিন আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে ‘আমাকে ফাঁসানো হয়েছে’ বলে দাবি করেন শঙ্কর নিজে। তিনি বলেন, ‘পুরোটাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতিতেই এলাকার কৃষকদের প্রশিক্ষণের জন্য তিনি ওই জমিতে গাছ লাগাতেন, চাষ করতেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বও। শুধু তাই নয়, ওই ক্যাম্পাসে উৎপাদিত ফসল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে তুলে দেওয়া হত বলে দাবি তাঁদের।

  • Link to this news (এই সময়)