আবাসনের এক তৃতীয়াংশে সবুজায়ন বাধ্যতামূলক, পরিবেশ দিবসে আইন মনে করালেন মুখ্যমন্ত্রী
eTV Bharat | ০৫ জুন ২০২৬
কলকাতা, 5 জুন: রাজ্যজুড়ে 1 কোটি 10 লক্ষ চারাগাছ লাগাবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করল রাজ্য সরকার । আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে 'একটি গাছ মায়ের নামে' প্রকল্পের সূচনা করতে গিয়ে এই কথায় জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।
আজ সল্টলেকের নলবনে 'একটি গাছ মায়ের নামে' অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী । উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল, মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা ডঃ সুব্রত গুপ্ত, বিজেপি নেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, পীযূষ কানোরিয়া, শঙ্কর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়-সহ আরও অন্যান্যরা ।
আজ এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান যে, প্রধানমন্ত্রীর দু'বছর আগে দিল্লির পার্কে একটি পিপুল গাছ লাগিয়ে বলেছিলেন যে তিনি এই গাছটি তার মায়ের নামে লাগালেন । অর্থাৎ 'একটি গাছ মায়ের নামে' ৷ সেই কর্মসূচি আজ সারা রাজ্যে আজ 6 লক্ষ ফলের গাছ রোপণ করার মধ্যে দিয়ে পালিত হচ্ছে ।
এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন যে, "শুধু গাছ লাগিয়ে বা মাছ ছেড়ে বা বক্তৃতা করে রাজ্য সরকার তার কাজ শেষ করবে না বরং কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে কথা বলে পশ্চিমবঙ্গের পরিবেশ এবং গাছ সংক্রান্ত বিষয় যে ঘাটতি ছিল তাকে পূরণ করে এই বর্ষে এক কোটি 10 লক্ষ গাছ লাগানো হবে এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে । কারণ গাছ লাগালেই শুধু হবে না এবং তাকে রক্ষণাবেক্ষণ করে চারা গাছকে যাতে মহীরুহে পরিণত করা যায় সেই চেষ্টা করতে হবে ।"
আজকের এই কর্মসূচিতে তিনি বিশেষভাবে জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান করেন । জানান, যে ছাত্রছাত্রী পাঠ্যপুস্তকে এবং সিলেবাসকে মূল্যায়ন করা হবে এবং পরিবেশ এবং বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত বিষয় তাদের যাতে প্রাথমিক থেকে স্কুলস্তর পর্যন্ত জানানো যায় সেই দিকে আগামী দিনে নজর দেওয়া হবে ।
এছাড়াও শহর ও শহরতলির হাউজিং এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র মাঝারি এবং বৃহৎ শিল্প বিভিন্ন আস্থার জায়গা বিভিন্ন সরকারি পরিকাঠামো যেখানে গড়ে উঠছে এবং তার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় ও রাজ্য সড়ক-সহ সর্বত্র যাতে সবুজায়ন করা যায় সেই পরিকল্পনাও রাজ্যে সরকারের রয়েছে । এই কংক্রিটের জঙ্গল থেকে সবুজায়নের দিকে ও নজর দিতে হবে ।
তিনি নগর উন্নয়নের আইন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলেন যে, "আইনে লেখা রয়েছে যে দুই তৃতীয়াংশ যদি বসতি বা কংক্রিটাইজেশন হয় সেক্ষেত্রে এক তৃতীয়াংশ বৃক্ষরোপণ এবং গ্রিনারি বা সবুজায়নের জন্য দিতে হবে । তাই পরিবর্তনের সরকার এবং যে ব্যবস্থার পরিবর্তন মানুষ চেয়েছিল এই প্রকৃতির সঙ্গে এবং পরিবেশের সঙ্গে আমরা যে অন্যায় করেছি এই অন্যায়ের খেসারত আমাদের বর্তমানে দিতেই হচ্ছে ৷ আগামী দিনেও আমাদের দিতে হবে ৷ তাই আমরা এই বিষয়ে আরও বেশি যত্নবান হব ৷ ভারত সরকারের মন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টার কয়েকদিন আগে এসেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে দশটা শহরে স্বচ্ছতা অ্যাপ চালু করা হয়েছে ৷ তাই মাননীয় মুখ্যসচিবকে বলব যে এটার ব্যাপ্তি আরও বাড়াতে হবে 10টা শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না যে অ্যাপের মাধ্যমে কোথাও যদি নোংরা আবর্জনা ইত্যাদি পড়ে থাকে পড়ে থাকলে এই অ্যাপের মধ্যে দিয়ে জানালে দু'ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।"
তিনি আরও জানান যে, রাজ্যের সমস্ত ধর্মীয় এবং আস্থার জায়গার ভেতরে ও বাইরে সৌন্দর্যও করতে হবে । দার্জিলিংয়ের টাইগার জল থেকে শুরু করে মন্দারমণি থেকে শুরু করে দিঘা ও ওড়িশার উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোকে সুসজ্জিত করে তুলতে হবে । অন্যদিকে কপিল মুনির আশ্রমকে আন্তর্জাতিকমানের করে তুলতে হবে । জঙ্গলমহলে যেভাবে অরণ্য ছেদন করা হচ্ছে তা অত্যন্ত বিপদজনক বলেই মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী ।
এছাড়াও স্কুল পড়ুয়াদের তিনি ইকো ক্লাব গড়ে তোলার পরামর্শ দেন । যে যারা এই ক্লাব গড়ে তুলতে ইচ্ছুক তাঁদের সরকারি আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে । এছাড়াও বিভিন্ন ব্লক অফিস থেকে স্কুলগুলিকে গাছের চারা বিতরণ করা হবে । এছাড়াও তিনি বেসরকারি ব্যবসায়িক সংস্থাগুলিতে যায় সিএসআর-এর একটি অংশ গাছ লাগাবার জন্য রাখা হয় সেই বিষয়েও আহ্বান জানান ৷
হাওড়ায় বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অনুষ্ঠান
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে হাওড়াজুড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ হিসেবে নয়, সামাজিক অঙ্গীকারের রূপ দিল প্রশাসন । 'মায়ের নামে একটি গাছ', এই বার্তাকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন প্রান্তে চারা রোপণ করা হল ।
এদিন ডুমুরজলা ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই, বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ, জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক প্রশাসনিক কর্তা । স্কুলের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, পুলিশকর্মী এবং বিভিন্ন বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরাও এই অভিযানে অংশ নেন । পরিবেশ রক্ষার শপথের পাশাপাশি হাতে-কলমে বৃক্ষরোপণ করা হয় ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উমেশ রাই বলেন, "সবুজ ও পরিচ্ছন্ন হাওড়া গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ । মায়ের নামে একটি গাছ মানে শুধু একটি চারা বসানো নয়, তাকে মায়ের মতোই শ্রদ্ধা ও যত্ন করা । সেই গাছ সারাজীবন পরিবারকে আশীর্বাদের মতো ছায়া ও অক্সিজেন দেবে ।"
মন্ত্রী আরও জানান, হাওড়া শহরে এক কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে । তার মধ্যে বৃহস্পতিবারই প্রায় 23 হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে । তাঁর দাবি, বর্ষার মরসুমে বৃহৎ আকারে এই কর্মসূচি চালিয়ে গিয়ে শহরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করা হবে ।
গাছ কাটা এবং জলাশয় ভরাটের প্রসঙ্গেও এদিন সরব হন তিনি । উমেশ রাইয়ের কথায়, উন্নয়নমূলক কাজে কোথাও গাছ অপসারণের প্রয়োজন হলে তার পরিবর্তে নতুন গাছ লাগানো বাধ্যতামূলক । জলাশয় রক্ষার ক্ষেত্রেও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট । তিনি বলেন, "অক্সিজেন সিলিন্ডারের উপর নির্ভর করে বাঁচতে চাই না। তাই গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছ বাঁচানোও সমান জরুরি ।"
হাওড়ার মতো দ্রুত বিস্তৃত নগর অঞ্চলে দূষণ ও সবুজের সংকোচন এখন বড় চ্যালেঞ্জ । সেই প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের এই কর্মসূচি কেবল সংখ্যার হিসাব নয়, পরিবেশকে জন আন্দোলনের স্তরে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টাও বটে । মায়ের স্মৃতির সঙ্গে একটি গাছকে জুড়ে দেওয়ার ভাবনা সেই বার্তাকেই আরও গভীর করে তুলেছে ।