এই সময়, আসানসোল: কলেবরে ছোট হতে চলেছে আসানসোল পুরসভা? এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেল রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কথায়। রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া ও কুলটির বাসিন্দারা গত কয়েক বছর ধরেই দাবি জানাচ্ছেন, আসানসোল পুরসভা থেকে তাঁদের এলাকাগুলিকে বিচ্ছিন্ন করে আগের মতো পৃথক পুরসভা গঠন করা হোক। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অগ্নিমিত্রা জানান, আগের মতো রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া ও কুলটিকে আলাদা আলাদা পুরসভায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া দরকার বলে তিনিও মনে করেন।
তিনি বলেন, ‘এটা খুব দরকার। কারণ, পুরসভা হিসেবে ভৌগোলিক আয়তনে কলকাতার থেকেও অনেক বড় হয়ে গিয়েছে আসানসোল। তার ফলে সব জায়গায় উন্নয়নের দিকে ঠিকঠাক নজর দেওয়া যায় না। উন্নয়ন হয়ওনি যথাযথ ভাবে, তাও দেখাই যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই বলেছেন, যেখানে যেখানে পুরসভা দরকার, সেখানে সেখানে পুরসভা আলাদা করে তৈরি করা হবে। আমিও নিজে মনে করি, এটা দরকার। অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি ভাবা হবে।’ একই অভিমত জামুড়িয়ার বিজেপি বিধায়ক বিজন মুখোপাধ্যায়েরও।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালে আসানসোল ও বার্নপুর নিয়ে আসানসোল পুরসভা গঠন করা হয়। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে ২০১৫–র ৩ জুন রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া ও কুলটি এই তিন পুরসভার অস্তিত্ব বিলোপ করে আসানসোল পুরসভায় যুক্ত করা হয়। কিন্তু এই তিনটি এলাকার বাসিন্দারা গত কয়েক বছর ধরেই বার বার অভিযোগ করেছেন, তাঁদের এলাকায় প্রকৃত অর্থে উন্নয়ন হচ্ছে না। আবার তাঁদের এলাকাগুলিতে নিজস্ব পুরসভা ফিরিয়ে দেওয়া হোক, এই দাবিও উঠে এসেছে। এ বার ভোটের আগে রানিগঞ্জের নাগরিক সমিতি থেকে শুরু করে বণিকসভা, জামুড়িয়ার বণিকসভা ও সাধারণ মানুষ এবং কুলটির বাসিন্দাদের তরফে বিজেপি নেতৃত্বের কাছে জোরের সঙ্গে এই দাবি জানানো হয়েছিল।