পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে তৃণমূলের ধাক্কা, পদত্যাগ সভাধিপতির
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৫ জুন ২০২৬
রাজ্যে প্রথম জেলা পরিষদ হাতছাড়া হল তৃণমূলের। হাতছাড়া হল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গড় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ। শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক পদত্যাগ করেন। সভাধিপতির পদত্যাগে জেলা রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন তৃণমূলের দখলে থাকা এই জেলা পরিষদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
শুক্রবার মেদিনীপুরের ডিভিশনাল কমিশনারের দপ্তরে গিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন উত্তম বারিক। তিনি জানান, নির্ধারিত শুনানির পর আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। তাঁর কথায়, ‘আজ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। ৬-৭ দিনের মধ্যে শুনানি হওয়ার কথা। তারপর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে মোট আসন ৭০। ২০২৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৫৬টি আসন জিতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল তৃণমূল। বিজেপি পেয়েছিল ১৪টি আসন। সেই জেলা পরিষদেরই সভাধিপতি ছিলেন উত্তম বারিক। তবে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তিনি কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ। যে কারণে একাধিক প্রশাসনিক কাজও আটকে ছিল বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।
প্রশ্ন হল, এই পরিস্থিতিতে কীভাবে চলবে জেলা প্রশাসন? নিয়ম অনুযায়ী এখন রাজ্য সরকার চাইলে প্রশাসক নিয়োগ করে জেলা পরিষদ পরিচালনা করতে পারে। আবার বর্তমান সদস্যদের মধ্য থেকেও নতুন সভাধিপতি নির্বাচনের পথও খোলা রয়েছে।
ঘটনায় রাজনৈতিক তাৎপর্য খুঁজছেন বিরোধীরা। জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা বামদেব গুচ্ছাইত বলেন, ‘উত্তমবাবু যদি সত্যিই পদত্যাগ করে থাকেন, তা হলে তাঁকে স্বাগত জানাই। উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করি।’
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। সেই আবহে পূর্ব মেদিনীপুরের এই ঘটনাকে অনেকেই জেলা স্তরের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন। জেলা পরিষদের পরবর্তী নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ এখন রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের উপরেই নির্ভর করছে।