রুখতে পারলেন না অমিত শাহও! তামিলনাড়ুর ‘পোস্টার বয়ে’র সঙ্গে বিচ্ছেদে সিলমোহর বিজেপির
প্রতিদিন | ০৫ জুন ২০২৬
দিন চারেকের লুকোচুরি খেলা শেষ। শেষ পর্যন্ত কে আন্নামালাইয়ের বিজেপি ছাড়ার জল্পনায় সরকারি সিলমোহর পড়ে গেল। শুক্রবার আন্নামালাইয়ের (Annamalai) জন্মদিন। সেদিনই সরকারিভাবে বিজেপি জানিয়ে দিল তামিলনাড়ুর প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছে দল। যার অর্থ, যে মুখকে কেন্দ্রে রেখে তামিলজয়ের স্বপ্ন দেখছিল, সেই মুখই এবার তাঁদের হাতছাড়া হয়ে গেল।
আসলে তামিলানড়ু বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই বিজেপির (BJP) সঙ্গে ঠোকাঠুকি চলছিল আন্নামলাইয়ের। সিবিএসই-র শিক্ষানীতিতে তিন ভাষা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের ব্যাপক বিরোধিতা করতে দেখা যায় তাঁকে। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের আগে এআইডিএমকে-র সঙ্গে বিজেপির জোটের বিরোধিতায় সরব হন তিনি। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় নাইনার নাগেন্দ্রনকে।
এমনকী নির্বাচনে দল তাঁকে টিকিটও না দিয়ে কার্যত বসিয়ে দেয়। এই ঘটনায় বিতর্ক মাথাচাড়া দিলে সাংবাদিক বৈঠক করে আন্নামলাই জানিয়েছিলেন, তিনি নিজেই ভোটে না লড়ার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও গত কয়েকমাসে একাধিকবার বিজেপির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান বিজেপির এই প্রাক্তন সভাপতি। এই পরিস্থিতিতেই শুরু হয় আন্নামলাইয়ের বিজেপি ত্যাগের জল্পনা। আন্নামলাইয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, বিজেপিতে কোনও ভবিষ্যৎ দেখছেন না তিনি। তাছাড়া তামিলনাড়ুতে বিজয়ের জয়ের পর আন্নামালাইয়ের ধারণা আগামী দিনে তামিল রাজনীতি অন্য খাতে বইবে। তাতে নতুন করে রাজনীতি শুরু করার পরিসর তৈরি হয়েছে। আর তাতে তিনি নিজে বিজয়ের বিকল্প মুখ হতে পারেন।
দিন দুই আগেই দিল্লি গিয়েছিলেন আন্নামালাই। শোনা যায়, সেসময় দলের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠান। কিন্তু তামিলভূমে নিজেদের পোস্টার বয়কে রুখতে মরিয়া চেষ্টা করেছিল বিজেপি। তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করার টোপ দেওয়া হয়। এমনকী গোপনে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। ইস্তফার দাবিতে অনড় ছিলেন আন্নামালাই। শেষে তাঁর ইস্তফাপত্র শুক্রবার গৃহীত হল।