বিধানসভার ডেপুটি লিডার সন্দীপন সাহার (Sandipan Saha) বাড়িতে জনরোষে দোষীদের শাস্তির দাবি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সকালে সন্দীপনের বাড়িতে হামলার ঘটনায় বিজেপির নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল (Priyanka Tibrewal) জড়িত বলে গতকালই অভিযোগ উঠেছিল। আজ, শুক্রবার বিধানসভায় বসে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) সরাসরি সেই নিশানা করলেন। “প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল রাজনৈতিকভাবে না ব্যক্তিগতভাবে এই ঘটিয়েছেন?” সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলনেতা। মৃদুস্বরে বঙ্গ বিজেপির দিকেও তোপ দেগেছেন তাঁরা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলের কর্মী-সমর্থকদের শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন, কোনওরকম হিংসায় যুক্ত না থাকার কথা বলেছেন। তারপরও বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা হামলা চালাচ্ছেন কীভাবে? সেই প্রশ্ন তুলেছেন ‘আসল তৃণমূলের’ নেতারা।
গতকাল, বৃহস্পতিবার সকালে বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালের নেতৃত্বে দলের কর্মী সমর্থকরা সন্দীপন ও স্বর্ণকমলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে পথে নামে। একটি বিক্ষোভ মিছিল করে তৃণমূল বিধায়কের বাড়ির সামনে যান তাঁরা। তারপর সেখানে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। সন্দীপন ও তাঁর বাবার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি অবৈধ নির্মাণ, কাটমানি ও তোলাবাজিরও অভিযোগ তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব। এরপরই এদিন তাঁদের বিরুদ্ধে পথে নামল গেরুয়া শিবির। সন্দীপন ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে একাধিক পোস্টার ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। সন্দীপনের ছবিতে জুতো মারতেও দেখা যায় এক বিজেপি কর্মীকে। বাড়ির সামনে ওঠে চোর চোর স্লোগান।
উল্লেখ্য, বুধবারই বিধানসভায় বিরোধী দলের স্বীকৃতি পেয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এই দলের ডেপুটি লিডার সন্দীপন সাহা-সহ ৪ জন। তৃণমূলের পরিষদীয় দলে প্রথম বেসুরো বিধায়ক হিসেবে ঋতব্রত ও সন্দীপনের নামই উঠে এসেছিল। সম্প্রতি তাঁদের বহিষ্কারও করেছে দল। নতুন তৃণমূল আত্মপ্রকাশে সন্দীপন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। বুধবারের ওই ঘটনার পরদিনই দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সামিল বিজেপি! আজ, শুক্রবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহারা এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেখানেই তাঁরা গতকালের ঘটনার প্রতিবাদ করে তদন্তের দাবি করেছেন। দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি তোলা হয়েছে।