রেল প্রকল্পে গতি আনতে শনিতে রেলমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর মেগা বৈঠক! বঙ্গে থমকে থাকা কাজে মিলবে ছাড়
প্রতিদিন | ০৫ জুন ২০২৬
রাজ্যে থমকে থাকা রেল প্রকল্পগুলো অবশেষে গতি পেতে চলেছে। রেল ওভারব্রিজ, সেতু, স্টেশনের পরিকাঠামো সংস্কার থেকে শহর, শহরতলির মেট্রো প্রকল্পগুলো নিয়ে আগামিকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে বৈঠক করবেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। নবান্ন সভাঘরের এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা সমস্ত বিধায়ক এবং সাংসদদেরও। তাঁদের থেকে নিজ নিজ এলাকার রেল সংক্রান্ত সমস্যার কথা শুনবেন রেলমন্ত্রী। সেইমতো পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
গত ১৫ বছর ধরে মূলত জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা। রাজ্য-কেন্দ্রের টানাপোড়েন। এই সমস্ত কারণে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রোজেক্টের কাজ সম্পূর্ণ থমকে বা শ্লথ হয়ে রয়েছে। নবান্নের এই মেগা বৈঠকেই সেই সমস্ত জট কাটিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল। মনে করা হচ্ছে, আগামিদিনে বাংলায় কয়েক হাজার কোটি টাকার রেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে চলেছে। সৌজন্যে রাজ্যের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত সেই বৈঠকে বিধায়ক-সাংসদদের পাশাপাশি পূর্ব রেল, দক্ষিণ-পূর্ব রেল, নর্থ ফ্রন্টিয়ার রেল ও কলকাতা মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার-সহ শীর্ষ আধিকারিকরা হাজির থাকবেন।
সেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জমি হস্তান্তরেরও সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ ১৫ বছর পর বাংলায় কেন্দ্র ও রাজ্যে সমন্বয়ের এক নতুন দিগন্ত খুলেছে। পূর্বতন সরকারের সঙ্গে রেলের যে ‘সংঘাতের রাজনীতি’ চলত, তার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের পরিকাঠামো খোলনলচে বদলে ফেলতে মরিয়া। এদিকে বহু প্রতীক্ষিত সেবক-রংপো রেল প্রকল্পের কাজে গতি আনতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলায় ২০ একর সরকারি জমি এই প্রকল্পের জন্য হস্তান্তরের প্রস্তাবে বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে। ৫০টির বেশি ফুটওভার ব্রিজ তৈরি করতেও রেলকে জমি হস্তান্তর করবে রাজ্য। তাছাড়া মূলত জমিজটে আটকে রয়েছে একশোর বেশি রেল প্রকল্প। এছাড়া রেল ওভারব্রিজ, সেতু, আন্ডারপাস, স্টেশনের পরিকাঠামো সংস্কারের কাজ পুরোপুরি থমকে গিয়েছিল আগের সরকারের আমলে। এবার তা গতি পাবে।
নবান্নসূত্রে খবর, রেলের তরফে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বিভিন্ন কাজের অনুমোদন চেয়ে প্রায়ই চিঠি আসত। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনও ছাড়পত্র মিলত না। বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপি পরিচালিত সরকার। আর তাতেই এবার বাংলায় থমকে থাকা রেল প্রকল্পগুলো আলোর মুখ দেখবে বলে মনে করছেন নবান্ন ও রেলের শীর্ষকর্তারা। সূত্রের খবর, শনিবারের বৈঠকে যাত্রীবাহী ট্রেন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি পণ্য পরিবহণকেও অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হচ্ছে। ডানকুনি-সুরাত ফ্রেট করিডর নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কথা হবে রাজ্যের মধ্যে চলা মেট্রোপ্রকল্প নিয়েও। স্বাভাবিকভাবেই তাই আগামিকালের এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রেলকর্তারাও। রয়েছেন এ রাজ্যের রেলকর্তারাও।