এলাকায় তাঁর টিকি মিলছে না। ফোনও ‘সুইচড অফ’! কোথায় গেলেন কলকাতার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর? মনে করা হচ্ছে, জোড়া এফআইআরের চাপে গা ঢাকা দিয়েছেন সুশান্ত ঘোষ। রাজ্যে সরকার বদল হতেই ১২ নম্বর বরো চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছেন তিনি। সুশান্তর খোঁজে পুলিশ হন্যে হলেও বেলদার ওড়িশা সীমানা থেকে ধরা পড়েছেন তাঁর গাড়ির চালক।
কলকাতার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে ফেরার নোটিস জারি করেছে আনন্দপুর থানা। যখন যে পরিস্থিতি খোঁজ মিলবে, সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হবে তাঁকে। হকারদের কাছ থেকে বিপুল টাকা তোলা আদায়ের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে গত ১ জুন আনন্দপুর অভিযোগ দায়ের করেন হকাররা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছিল, গত ২০২২ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাজারে নতুন টিন ও শাটারের দোকান তৈরি হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত কাউন্সিলর ও তাঁর সঙ্গীরা বলে দেন, কোন ব্যবসায়ী কত বড় দোকান পাবেন। সেইমতো তাঁদের রেটচার্ট করে দেওয়া হয়। ওই রেটচার্ট অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের টাকা দিতে হয়। এ ছাড়াও বেশ কিছু দোকানও বানানো হয়। একেকটি দোকান কাউন্সিলর ও তাঁর সঙ্গীরা ৬ লাখ টাকা করে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ।
আনন্দপুর থানায় অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই সুশান্ত ঘোষের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। নাকা চেকিংগুলিতেও চলছিল তল্লাশি। শুক্রবার ওড়িশা সীমানার দিকে যাওয়ার পথে নাকা তল্লাশিতে ধরে পড়ে তৃণমূল কাউন্সিলরের গাড়ি। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই গাড়িতেই ছিলেন সুশান্ত ঘোষের পরিবার। জানা গিয়েছে, পুলিশের জালে সুশান্ত ঘোষের গাড়ির চালক। তাঁর বিরুদ্ধেও রয়েছে তোলাবাজির অভিযোগ। এখন দেখার, গাড়ির চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে সুশান্ত ঘোষের হদিশ পায় কি না পুলিশ।