হাওড়া, 5 জুন: স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারিকে সামনে রেখে রাজ্যের পূর্বতন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ফের সরব হলেন হাওড়ার শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ । তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও প্রশাসনিক প্রশ্রয়ের সংস্কৃতিই এক সময় রাজ্যে আইনের শাসনকে দুর্বল করেছিল । আর সেই কারণেই প্রভাবশালী মহলের একাংশ নিজেদের ধরাছোঁয়ার বাইরে বলে ভাবতে শুরু করেছিল । তবে বর্তমান সরকারের আমলে সেই সব নেতাদের যথাযোগ্য পরিণতি হবে বলে দাবি করেন রুদ্রনীল ৷
শুক্রবার হাওড়ার ডুমুরজলা ক্রীড়াঙ্গণে পরিবেশ দিবসের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ । সেখানেই তিনি দাবি করেন, অতীতে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা ছিল প্রশাসনের একাংশের । তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অভিযোগ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশের কারণেই আজকের পরিস্থিতি ।
শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, এদিন বাংলার চলচ্চিত্র জগতের বর্তমান অবস্থাও টেনে আনেন বিজেপি বিধায়ক । রুদ্রনীলের অভিযোগ, এক সময় যে শিল্পভিত্তিক পরিকাঠামো বাংলা সিনেমাকে শক্ত ভিত তৈরি করে দিয়েছিল, তা ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । তাঁর দাবি, ছবি নির্মাণের সংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে শিল্পী, কলাকুশলী এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মীদের বড় অংশ কাজ হারিয়েছেন ।
রুদ্রনীলের কথায়, "চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের দুষ্কৃতী ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস ৷ যাঁর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে ৷ প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাস এই ইন্ডাস্ট্রিটাকে নষ্ট করেছেন ৷ ক্ষতি করে দিয়েছেন সিনেমা জগতের ৷ আগে বছরে 100টা সিনেমা হত ৷ এখন 30টা হয় ৷ মানে 70 শতাংশ সিনেমা কমে গিয়েছে ৷ ফলে টেকনিশিয়ান, আর্টিস্ট থেকে সবাই কাজ হারিয়েছেন ৷ সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটক, উত্তম কুমারদের এই গৌরবান্বিত জায়গা ওঁরা কলুষিত করেছে ৷ "
স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারিকে তিনি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ রুদ্রনীল ঘোষ । এই ঘটনাকে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি । তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়েছে এবং আইন নিজের পথে চলেছে ।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পরিবেশ দিবসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে রুদ্রনীলের এই আক্রমণ আসলে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সংঘাতেরই প্রতিফলন । একদিকে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক পরিসরের সংকোচনের অভিযোগ, এই দুই ইস্যুকেই এক সুতোয় গেঁথে পূর্বতন শাসকদলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন বিজেপি বিধায়ক ৷ স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি নিয়ে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চললেও, ঘটনাটি যে রাজনৈতিক তরজার নতুন অস্ত্র হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট রুদ্রনীলের বক্তব্যে ৷