• লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর বিধবা ভাতাতেও দুর্নীতি! উপভোক্তার টাকা ঢুকছে অন্যত্র
    eTV Bharat | ০৫ জুন ২০২৬
  • মালদা, 5 জুন: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের রেশ এখনও কাটেনি । তার মধ্যেই এবার বিধবা ভাতাকে ঘিরে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এল মালদার চাঁচলে । অভিযোগ, প্রকৃত উপভোক্তা হয়েও বছরের পর বছর সরকারি ভাতার টাকা পাননি একাধিক বিধবা মহিলা । অথচ তাঁদের নামে বরাদ্দ হওয়া অর্থ নিয়মিত অন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে । ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চাঁচল শহরের বাজারপাড়া এলাকায় ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সরিতা আগরওয়াল নামে এক বিধবা মহিলা দীর্ঘদিন আগে বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করেছিলেন । কিন্তু আবেদন মঞ্জুর হলেও তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কখনও কোনও টাকা জমা পড়েনি বলে অভিযোগ । সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে ।

    সরিতা দেবীর দাবি, প্রশাসনের নথিতে দেখা গিয়েছে তাঁর নামে বিধবা ভাতার টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং 2023 সাল থেকে 2026 সাল পর্যন্ত নিয়মিত অর্থও পাঠানো হয়েছে । কিন্তু সেই টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে নয়, অন্য একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে । ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবি করেছেন তিনি ।

    সরিতা আগরওয়াল বলেন, "আমি বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করেছিলাম । কিন্তু আজ পর্যন্ত এক টাকাও পাইনি । ব্লক অফিসে গিয়ে জানতে পারি আমার নামে টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং অন্য একটি অ্যাকাউন্টে জমাও পড়েছে । আমি চাই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক ।"

    শুধু সরিতা আগরওয়ালই নন, এলাকার আরও কয়েক জন প্রকৃত উপভোক্তার ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে । অভিযোগ, ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরকারি ভাতার টাকা অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে । ফলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন প্রকৃত উপভোক্তারা ।

    ঘটনার জেরে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায় । একাধিক উপভোক্তা ইতিমধ্যেই চাঁচল-1 ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন । তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চললেও প্রশাসনের নজরে তা কেন এল না, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিতে হবে ।

    বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে । অভিযোগকে হাতিয়ার করে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বর্তমান শাসক বিজেপি । মালদা উত্তর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ শর্মা বলেন, "লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর এবার বিধবা ভাতাতেও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে । প্রকৃত উপভোক্তাদের বঞ্চিত করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে । একাধিক ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে সধবা মহিলাদের বিধবা দেখিয়ে টাকা তোলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন । আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি ।"

    অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন । চাঁচলের মহকুমাশাসক হৃত্বিক হাজরা জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে । ইতিমধ্যেই ব্লক প্রশাসনকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি ।

    সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে অনিয়মের এই অভিযোগ ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে । প্রকৃত উপভোক্তাদের প্রাপ্য অর্থ যদি অন্যের অ্যাকাউন্টে চলে যায়, তবে সেই দায় কার ? তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে মালদার চাঁচল ।
  • Link to this news (eTV Bharat)