বিধানসভার পর লোকসভা ! কাকলির নেতৃত্বে কি ফের ভাঙছে তৃণমূল ?
eTV Bharat | ০৫ জুন ২০২৬
কলকাতা, 5 জুন: বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী তৃণমূল সরকারের নীতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা ৷ বিধানসভায় ভাঙনের পর তৃণমূলের লোকসভায় ভাঙন নিয়ে আশঙ্কার মাঝে দলের পরাজয়ের জন্য নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি দায়ী করলেন লোকসভার সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার ৷
মমতার তৃণমূলের অস্তিত্ব রক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সংশয় তৈরি হয়েছে ৷ বিধানসভার পর কি লোকসভা ও রাজ্যসভাতেও তৃণমূল সাংসদরা বিদ্রোহের পথেই হাঁটবেন ? এই জল্পনা উসকে দিয়েছেন রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সুখেন্দু শেখরের একটি মন্তব্য ৷ গতকালই তিনি বলেন, "এত দ্রুত 60 জন বিধায়ক যে বিধানসভাতে চলে যাবেন, এটা আমি কখনও দেখিনি ৷ লোকসভাতেও একই প্রতিক্রিয়া হতে চলেছে ৷"
তৃণমূলের এমন রাজনৈতিক সঙ্কটে সোশাল মিডিয়ায় নেত্রী মমতার বিরুদ্ধে সরব হন সাংসদ কাকলি ৷ শুক্রবার সোশাল মিডিয়ায় বারাসতের সাংসদ কাকলি লেখেন, "একটি রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসা চারবারের সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থেকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন বিগত চার দশক ধরে ৷ তিনি কি নিজের কথা ভাবছেন ? এই রায় পূর্বতন সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা৷"
তৃণমূলের সঙ্গে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই প্রকাশ্য সংঘাতের সূচনা হয় ভোটের ফল ঘোষণার পরে ৷ গত 15 মে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে লোকসভার মুখ্য সচেতক পদ থেকে সরিয়ে ফের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই পদে বহাল করেছে দল ৷ এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কড়া সমালোচনা করতে থাকেন কাকলি ৷
সোশাল মিডিয়ায় তিনি অভিমানী পোস্টে লিখেছিলেন "76 থেকে পরিচয়, 84 থেকে পথচলা শুরু ৷ চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কার পেলাম ৷’’ এই ঘটনার পর থেকে বারাসতের তৃণমূল সাংসদ ডা. কাকলি ঘোষদস্তিদার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাচ্ছেন । সূত্রের খবর, গত 18 মে থেকে কেন্দ্রীয় সিআইএসএফ (CISF) জওয়ানরা তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন ৷
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে ঠিক এক মাস আগে ৷ 80টি আসনে জয়ী হলেও যত দিন গিয়েছে ততই তৃণমূলের অন্দরে ফাটল স্পষ্ট হয়েছে ৷ তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে 28 বছর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তৈরি তৃণমূল কংগ্রেস ৷
গত 3 জুন উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা-সহ 58 জন বিধায়কের পরিষদীয় দল রাজ্য বিধানসভায় অধ্যক্ষের কাছে বিরোধী দলনেতা সংক্রান্ত পৃথক প্রস্তাব জমা দেন ৷ এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূলের বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দিয়েছেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু ৷ এই বিদ্রোহী বিধায়করা নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল ও প্রধান বিরোধী দল হিসাবে দাবি করেছেন ৷
এর আগে তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল করে রেজোলিউশন জমা দেওয়ার অভিযোগ জানিয়েছিলেন ৷ এই অভিযোগের তদন্তে নেমেছে সিআইডি ৷ এই রেজোলিউশনেই তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল ৷
2 জুন ধর্মতলায় ওয়াই চ্যানেলে ধরনা অবস্থান করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ দলের ভরাডুবির পর এটাই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশ্য কর্মসূচি ৷ নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস, কলকাতায় হকার উচ্ছেদ অভিযান-সহ একাধিক ইস্যুতে বিজেপি সরকারের বিরোধিতায় ধর্না দেন তিনি ৷ ওয়াই চ্যানেলের সংকীর্ণ পরিসরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেনের মতো গুটিকয়েক লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদরা ৷ তারও আগে গত 31 মে, রবিবার কালীঘাটে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের বৈঠকে হাজির ছিলেন মাত্র 20 জন বিধায়ক ৷ সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলিই তৃণমূলের অন্দরের সংঘাতকে স্পষ্ট করে তুলছে ৷ এবার কি বিধায়কদের দেখানো পথ অনুসরণ করে বিদ্রোহ ঘোষণা করবেন তৃণমূলের লোকসভার সাংসদরা ?