৭ এপ্রিল, মঙ্গলবার, সকাল ১০টা। টলিপাড়ার তরুণ তুর্কি রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুতে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে একত্রিত হয়েছিলেন আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা। শুটিংয়ের সময় যথাযথ নিরাপত্তার দাবিতে সেদিন থেকেই কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই মর্মেই সকাল থেকে বৈঠক চলছিল টেকনিশিয়ান স্টুডিওর অন্দরে। তার মাঝেই কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যান অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। মূলত ইন্ডাস্ট্রির কর্তা-ব্যক্তি এবং সিনিয়রদের নিয়েই আলোচনা চলছিল। সঙ্গে ছিলেন আর্টিস্ট ফোরামের সভাপতি শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়। কী কারণে শ্রীলেখা বেরিয়ে গিয়েছিলেন সেই প্রশ্নে সরগরম হয়ে উঠেছিল সিনেপাড়া। সেই সময় শোনা গিয়েছিল, বৈঠকের মাঝেই শ্রীলেখা নাকি বচসায় জড়িয়েছিলেন। ঘটনার প্রায় দু’মাস পর প্রকাশ্যে এল কঠিন বাস্তব।
বৃহস্পতিবার রাতে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর স্বরূপ গ্রেফতার হতেই ফুঁসছে টলিপাড়া। স্বরূপের স্বৈরাচার নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে ইন্ডাস্ট্রির কলাকুশলীরা। ঋদ্ধি সেন থেকে সোহান বন্দ্যোপাধ্যায়, মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরও অনেকেই সোচ্চার হয়েছেন। এমতাবস্থায় উঠে এসেছে শ্রীলেখা প্রসঙ্গ। কথায় আছে কান টানলে মাথা আসে। এক্ষেত্রেও যেন ব্যাপারটা ছিক সেরকমই। শুক্রের সকালে বোমা ফাটালেন অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিক ও অভিনেতা জয়রাজ ভট্টাচার্য। দুজনেই জানান, সেদিন অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্যই বৈঠকে থাকার অনুমতি পাননি শ্রীলেখা। তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। এহেন অপমানের জন্যই সেদিন চোখের জলে টেকনিশিয়ান স্টুডিও ছেড়েছিলেন শ্রীলেখা মিত্র।
সোশাল মিডিয়ায় পোস্টে অরিত্রর বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘স্বরূপ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে তাঁর নামটুকু উচ্চারণ করার পর কিছু লোক প্রায় রে রে করে উঠেছিলেন। অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের হাত থেকে মাইক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কারা অসভ্যতা করেছিলেন দেখেছিলাম। তাঁরা বাইরে তৃণমূলের বিরোধিতা করলেও রাতে অরূপ বিশ্বাসকে ফোন করে গল্পগুজব করতেন। তৃণমূলের বিভিন্ন হাইস্টেক অনুষ্ঠানে নেমন্তন্ন পেতেন। মিটিং ছেড়ে বাইরে বেরোনোর পর সংবাদমাধ্যম প্রকৃত সত্য জানতে চেয়েছিল কিন্তু ফোরামের সদস্য হবার কারণে আমি নামগুলো বলতে পারিনি।’
স্বরূপকে নিয়ে কথা বলার জন্য শ্রীলেখাকে মিটিং থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে সহমত পোষণ করেছেন অভিনেতা জয়রাজ ভট্টাচার্যও। তিনিও সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে টেকনিশিয়ান স্টুডিও অন্দরের অজানা কাহিনি ফাঁস করলেন। অভিনেতার পোস্টের দাবি অনুযায়ী, সেদিনের মিটিংয়ে স্বরূপ বিশ্বাসের মাতব্বরি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন শ্রীলেখা। তারই মাশুল গুনতে হয়েছিল।
অভিনেত্রী সুর চড়িয়ে বলেছিলেন, “যে ব্যবস্থার বলি হল রাহুল, সেই ব্যবস্থা থেকে মূল লাভবান স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁকে সামনে রেখে রাহুলের মৃত্যুর কোন জাস্টিস চাওয়া যায়?” শ্রীলেখার এই যুক্তি শুনেই সেখানে উপস্থিত অনেকের দাবি, এসব কথা বলার জন্য সেটা সঠিক সময় নয়। শ্রীলেখার সমর্থনে আজ অর্থাৎ শুক্রবার জয়রাজ হেঁয়ালি করে বলেছেন, ‘তখনও তো সরকার পাল্টায়নি! তখনও তো স্বরূপ বিশ্বাসদেরই গভর্নমেন্ট! তাই সেটা ছিল সেই সময়ের সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন।’ তবে গৈরিক বঙ্গে শ্রীলেখার সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে অরিত্র, জয়রাজের সরব হওয়ায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন শ্রীলেখা মিত্র।